এন্ড্রয়েডের অসাধারন কিছু এপস ১

অনেকের কাছে আজকাল এন্ড্রয়েড ফোন দেখা যায়। দেখা যায় বেশিরভাগ ব্যবহারকারীরা এর ফুল পটেনশিয়াল উপলব্ধি করেন না। শুধু কলিং, টেক্সটিং, ফেসবুক এর মত গুটিকয়েক কাজে ব্যবহার করে থাকেন। দেখা যাক আরো কি কি করা যেতে পারে। নিন্মের প্রায় সব এপ্লিকেশন সরাসরি গুগল প্লে এপ স্টোরেই পাওয়া যাবে ফ্রী তে।

এয়ারড্রয়েড (Airdroid): অসাধারন একটি এপ। আপনার লোকাল ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে এয়ারড্রয়েডের মাধ্যমে প্রায় সব কিছুই করতে পারবেন ফোন না ধরেই। সেটা ছাড়াও ইন্টারনেটের মাধ্যমেও এসব করা সম্ভব। যেকোন কম্পিউটারে কোন কেবল ছাড়াই ব্যকাপ, ফাইল ট্রান্সফার, ছবি/ভিডিও দেখা, এপ ইন্সটল করা যায়। ধরুন আপনার বন্ধুর বাসায় গিয়ে ফোনে কিছু ফাইল ঢুকাবেন বা বন্ধুকে ফোন থেকে কিছু ফাইল কম্পিউটারে ট্রান্সফার করবেন কিন্তু কেবল টা যে নেই? কোন সমস্যা নেই। এয়ারড্রয়েডে ওয়াইফাই অন করে ট্রান্সফার করুন কেবল ছাড়াই। নেটওয়ার্ক স্পীড ভালো হলে ফোনের ক্যমেরা থেকেই ভিডিও স্ট্রিমিং করতে পারবেন। আরেকটি বিশেষ ব্যপার হলো, আপনি ফোন না ধরেই এসএমএস পাঠানো, রিপ্লাই সবি করতে পারবেন। ধরুন আপনি ফোন বাসায় রেখে অফিসে চলে গেছেন। কিন্তু এয়ারড্রয়েড একাউন্ট সেট করে নিলে অফিসে বসে বসে ফোনের এসএমএস পড়া/পাঠানো দুটোই করতে পারবেন। বলতে গেলে প্রায় ৮০% কাজ ফোন না ধরেই, ওয়াইফাই দিয়ে সেরে ফেলা যায়।

টাস্কার (Tasker): টাস্কার আরেকটি দারুন এপ পাওয়ার ইউজারদের জন্য। এর মূল ফাংশান হোলো অটোমেশন। টাস্কার শিখতে একটু সময় লাগতে পারে। তবে একবার এর মর্ম বুঝতে পারলে এর ক্ষমতা টের পাবেন। এটা দিয়ে কি করতে পারি, এ প্রশ্ন না করে আপনি উলটো বলবেন যে টাস্কার দিয়ে কি করা যায়না? টাস্কারের রয়েছে দুটো ভাগ – কন্টেক্সট এবং টাস্ক। কন্টেক্সট টা হচ্ছে কি, কিসের নির্ভর করে, টাইম, লোকেশন, ক্যলেন্ডার ইত্যাদি। টাস্ক হলো কি কাজ করবে, ফোন সাইলেন্ট করবে, মেসেজ পাঠাবে, কাউকে কল দেবে ইত্যাদি। ধরুন আপনার বন্ধুর জন্মদিন জানুয়ারীর ১২ তারিখ। রাত ১২টায় তাকে শুভেচ্ছা এসএমএস পাঠাতে চান। বেশ, টাস্কের এটি ডিফাইন করে দিন সেই মতো। ১২ তারিখ রাত বারোটায় আপনার মেসেজ চলে যাবে যখন আপনি ঘুমিয়ে থাকবেন। তারপর ধরুন রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ফোন ভাইব্রেশন এ রাখতে চান এবং ডাটা/ওয়াইফাই কানেকশান অফ করে দিতে চান। টাস্কারে সেভাবে একটি টাস্ক ডিফাইন করুন। প্রতিদিন সেই সময়ে সব নেট কানেকশান বন্ধ হয়ে যাবে। আবার ধরুন অফিসে মিটিং এ যাচ্ছেন, টাস্কারে আপনি চাইলে অটোমেটিকভাবে ফোন ভাইব্রেশনে বা সাইলেন্টে পাঠিয়ে দিতে পারেন যেটা আপনার ক্যলেন্ডারের উপর নির্ভর করবে। তারপর আরো ধরুন আপনি ড্রাইভিং করছেন সে সময় কল বা এসএমএস এলো, টাস্কার চাইলে একটা অটো রিপ্লাই দিতে পারে আপনার হয়ে। অতএব দেখতেই পাচ্ছেন টাস্কারের কোন প্রিডিফাইন্ড ফাংশান নেই। আপনাকেই জানাতে হবে যে টাস্কারের মাধ্যমে আপনি কি করতে চান।

ইউনিফাইড রিমোট (Unified Remote): আরো একটি দারুন এপ এটি। আপনার ফোনের স্ক্রীন কে একটি ওয়ারলেস কিবোর্ড/মাউসে পরিণত করতে পারেন। এর জন্য অবশ্য আপনার ডেস্কটপ বা ল্যপটপে ছোট্ট একটি প্রোগ্রাম ইন্সটল করা লাগবে। এরপর এপ ইন্সটল করে দূরে থেকেই কন্ট্রোল করুন আপনার পিসি। বেসিক কিবোর্ড মাউস ছাড়াও এর আরো অনেক ফাংশান রয়েছে। এছাড়াও আপনার ফোনে যদি IR blaster বা ইনফ্রারেড থাকে, তাহলে এটি দিয়ে আপনার টিভি, কেবল, ডিভিডি প্লেয়ার ইত্যাদি কন্ট্রোল করতে পারবেন।

আজ এই তিনটি নিয়ে লিখলাম। পরে আরো কিছু যোগ করবো।

Share with:


Leave a Reply

Connect with:



Your email address will not be published. Required fields are marked *