ভার্চুয়াল হোম ল্যাব সরঞ্জাম এবং খরচাপাতি

পড়ূন – ভার্চুয়ালাইজেশন কি এবং কেন?

বাসায় একটি হোম ল্যাব তৈরির জন্য কি কি লাগবে তা নিয়ে আজকের ব্লগ। এটা নির্ভর করে আপনার চাহিদাটা কি? আপনি কি শখের বশে দুই/তিনটা আলাদা ওএস রানিং করতে চান? আপনি কি একটি পরিপূর্ণ ল্যাব তৈরি করতে চান? বাসায় নিজস্ব একটি মাইক্রোসফট এক্টিভ ডাইরেক্টরী বা এক্সচেঞ্জ ইমেইল রান করতে চান? আগে সিদ্ধান্ত নিন আপনার টার্গেট কি। তারপর সেভাবে সিস্টেম কনফিগার করা যাবে। ভার্চুয়ালাইজেশনের জন্য যে তিন/চারটে জিনিশ মেইন, আমি সে কয়েকটি নিয়ে লিখছি।

সিপিইউ – ইন্টেল সিপিইউ বেস্ট এটা সবাই জানেন। এফিসিয়েন্সি, পার্ফরম্যন্স, ফিচার সবদিক থেকে এএমডীর থেকে অনেক এগিয়ে ইন্টেল প্রসেসরগুলো। দৈনন্দিন কাজের জন্য বাজেট অনুযায়ী যেকোন ইন্টেল চিপ নিতে পারেন। তবে ভার্চুয়ালাইজেশনের জন্য কিনতে হলে কিছু ফিচার আছে যেগুলো দেখেই প্রসেসর টা কিনবেন। ফিচারগুলো হচ্ছে  VT-X এবং VT-D. এর মধ্যে প্রথমটি ভিটিএক্স বেশি দরকারী। ভিটিডী থাকলে ভালো, না থাকলে তেমন সমস্যা নেই। একান্তই যদি এএমডীর প্রসেসর কিনতে হয়, তাহলে ভার্চুয়ালাইজেশন সাপোর্ট আছে কিনা যাচাই করে কিনবেন। ইন্টেল প্রসেসর ফিচারগুলো দেখার জন্য আসুন ইন্টেল আর্ক এ (Intel ARK).

ডিস্ক স্পেস এবং টাইপ – ডিস্ক স্পেস নিয়ে অনেকের সমস্যা হবেনা আশাকরি। কারন ডিস্ক স্পেস এলোকেশনটা ভার্চুয়াল। অর্থাৎ আপনার ফিজিকাল ডিস্ক এ ধরুন মাত্র ২০গিবি খালি আছে, সেখানে কিন্তু আপনি একটা ভার্চুয়াল সিস্টেম তৈরি করে সেটাকে মনগড়া একটা ডিস্ক স্পেস দিতে পারেন। চাইলে ১০০গিবিও দিতে পারেন। যতক্ষণ না আপনার রিয়াল স্পেস ২০গিবি ব্যবহৃত না হচ্চে, ততক্ষণ কোন সমস্যা হবেনা। এবার বলি ডিস্ক টাইপের কথা। আমাদের বেশিরভাগ হোলো স্পিনিং ডিস্ক টাইপ, ৭২০০ আরপিএম। এগুলো দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু যখন ভার্চুয়াল সিস্টেম রানিং করবেন, তখন পার্ফরম্যন্স অনেক কমে যায় কারন এগুলোর রাইটিং স্পিড অনেক কম। তাহলে সমাধান কি? যদি সম্ভব হয়, তাহলে এসএসডি ব্যবহার করাই শ্রেয়। ৫০০গিবি স্পিনিং ডিস্কের চেয়ে ১০০গিবি এসএসডি ড্রাইভ অনেক কাজে আসে, বিশেষ করে ভার্চুয়ালাইজেশনের ক্ষেত্রে। সিস্টেমগুলো হবে অনেক দ্রুত। তাছাড়া আজকাল এসএসডির মুল্য অনেক হাতের নাগালে। আপনার বাজেটে যত বড় সম্ভব হয়, তত বড় এসএসডি ড্রাইভ নিতে পারেন। আমি ২৪০গিবি বা তার উপরে নিতে বলবো।

মেমরি / র‍্যাম অনেকটা ডিস্ক স্পেসের মতই র‍্যম নির্ভর করবে আপনি কি ধরনের সিস্টেম বানাতে চান। দুই/তিনটে ভার্চুয়াল সিস্টেমের জন্য ৮গিবি হলেই চলবে। তবে ৫/৬ টি ভিএম চালাতে গেলে ১৬গিবি প্রয়োজন হবে। এছাড়া একদম পরিপূর্ণ একটি ল্যাব তৈরির জন্য ৩২গিবি হলে বেস্ট হয়। এসএসডির মত মেমরিও আজকাল অনেক সস্তায় পাওয়া যায়। চাইলে সেকেন্ড হ্যন্ড/ইউজড মেমরিও কিনতে পারেন। ডিডিআর৪ যেহেতু লেটেস্ট, তার দাম একটু বেশি, তাই ডিডিআর৩ মেমরি নিলেও চলবে। অবশ্য ৩ নাকি ৪ এটা নির্ভর করবে আপনার মাদারবোর্ড এবং সিপিইউর উপর।

তাহলে ব্যপারটা হোলো– কি করতে চাই? এটা ঠিক করতে হবে আগে > তারপর আমার বাজেট কতো? আমি কি নতুন বিল্ড করবো নাকি আপগ্রেড করবো? > বাজেট অনুযায়ী মেমরি, সিপিইউ, ডিস্ক কেনা।

Share with:


One thought on “ভার্চুয়াল হোম ল্যাব সরঞ্জাম এবং খরচাপাতি

  1. Pingback: ভার্চুয়ালাইজেশন কি এবং কেন? | টেকবাংলাটেকবাংলা

Leave a Reply

Connect with:



Your email address will not be published. Required fields are marked *