ভার্চুয়ালাইজেশন কি এবং কেন?

ভার্চুয়ালাইজেশন কি এবং কেন ব্যাখ্যা না করেই ভার্চুয়াল হোম ল্যাব এবং ভার্চুয়ালাইজেশন টূলস নিয়ে আগেই লিখে ফেলেছি। স্বভাবতই যারা এই ক্ষেত্রে নতুন, তারা ভাববেন শুরুতেই ভার্চুয়ালাইজেশন কি তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

ভার্চুয়ালাইজেশন আর সিমুলেশন মূলত একি। কম্পিউটিং এর ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম তৈরি করা হয়। একে এমন একটা ইম্প্রেশন দেয়া হয় যে এটি রিয়াল হার্ডওয়্যারে চলছে কিন্তু বাস্তবে সবকিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমেই হচ্ছে। অর্থাৎ ভার্চুয়াল সিস্টেম কিন্তু বুঝতে পারেনা সেটি একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম। কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা অনেকেই কিন্তু পরোক্ষভাবে এই ভার্চুয়ালাইজেশন করেছেন এক সময় কিন্তু হয়ত এই টার্ম “ভার্চুয়ালাইজেশন” টার সাথে পরিচিত নন। উদাহরন – আমরা ডিস্ক পার্টিশন করেছি আগে। ডিস্ক পার্টিশন করে আমরা একটি ফিজিকাল ডিস্ককে দুই বা তিন ভাগে ভাগ করে নিতাম আরে সেটা উইন্ডোজে দুই বা তিনটে আলাদা ড্রাইভ হিসেবে দেখা যেতো। তারমানে হলো আমরা ওই একটা ফিজিকাল ড্রাইভ কে ভার্চুয়ালাইজ করেছি। বিশ্বখ্যাত VMWare কোম্পানী অনেক আগেই এই ভার্চুয়ালাইজেশনের ক্ষমতা বুঝতে পেরেছিল তাই তারা অনেক আগে থেকেই এই ফিল্ডে ডেভেলপিং শুরু করে। আমাদের সিপিইউ, র‍্যম বেশিরভাগ সময়েই আইডল পরে থাকে। সফটওয়্যরের মাধ্যমে এই আইডল রিসোর্স কে কাজে লাগিয়ে আমরা একি সাথে তিন চারটে অপারেটিং সিস্টেম একি ফিজিকাল কম্পিউটার থেকে চালাতে পারি। আমাকে আর পয়সা খরচ করে চারটে আলাদা কম্পিউটার কিনতে হচ্ছেনা। আর তাছাড়া যেহেতু সবকিছুই সফটওয়্যার বেসড, আমি চাইলে এই চারটে অপারেটিং সিস্টেম সহজেই অন্য আরেকটি কম্পিউটারে নিয়ে যেতে পারি। এগুলো তখন পোর্টেবল হয়ে যায়। একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম মুলত কয়েকটি বিশাল ফাইলের সংগ্রহ।

ডেস্কটপ অনেক আগে থেকেই ভার্চুয়ালাইজ করা হয়েছে। এরপর সার্ভার হোলো। তারপর স্টোরেজ এবং ইদানীং নেটওয়ার্কেও ভার্চুয়ালাইজেশন চলছে। একটি দুটি এপ্লিকেশন রানিং করার জন্য বারবার সার্ভার কেনা সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বরং একটি পাওয়ারফুল সার্ভার কিনে নিয়ে সেটিতে অনেক ভার্চুয়াল সিস্টেম রান করে থাকে। এতে করে খরচ কমে, ব্যকাপ/রিস্টোর অনেক সহজেই হয়ে যায়। ভার্চুয়ালাইজেশনের সফলতার আরেকটি কারন হলো ওভার-কমিটমেন্ট। অর্থাৎ যেখানে আপনার সিস্টেম মাত্র ৮গিগ র‍্যাম, সেখানে আপনি হয়ত একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম তৈরি করলেন ১৬গিগ দিয়ে। এটা করা সম্ভব। যতক্ষণ না ঐ ভিএম তাকে দেয়া পূরো র‍্যাম ব্যবহার না করছে, আপনার সমস্যা হবেনা। একিভাবে স্টোরেজের ক্ষেত্রেও ওভার-কমিটমেন্ট করা যায়। যেহেতু ভার্চুয়ালাইজেশন মূলত কয়েকটি ফাইল, এটি অত্যন্ত সহজেই ম্যনেজ করা যায়। আরেকটি সুবিধা হলো এনার্জি সেভিংস। দশটী ফিজিকাল সার্ভার যে বিদ্যুত খরচ করবে, একটি বা দুটি সার্ভার আরো কম খরচে চলবে। অনেক কোম্পানী আজকাল তাদের এপ্লায়ান্সগুলোকে ভার্চুয়ালাইজ করে ফেলেছে। এতে তাদের খরচ তো কমছেই পাশাপাশি কাস্টমারদের সুবিধে হচ্ছে কারন তারাও কম খরচে এপ্লায়ান্স কিনতে পারছে। আরো রয়েছে টেস্টিং সার্ভার বা ডেস্কটপ সুবিধে। যখনি প্রয়োজন পড়বে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম তৈরি করা যাবে। এটা খুবি ডিসপোজেবল।

দেখা যাচ্ছে ভার্চুয়ালাইজেশনের সুবিধে অনেক। আশাকরি ভার্চুয়ালাইজেশন সম্পর্কে কিছু ধারনা দিতে পেরেছি। কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। উপরোক্ত লেখাগুলো নিচে ছবির আকারে দেয়া হলো।

Share with:


2 thoughts on “ভার্চুয়ালাইজেশন কি এবং কেন?

  1. Pingback: ভার্চুয়াল হোম ল্যাব সরঞ্জাম এবং খরচাপাতি | টেকবাংলাটেকবাংলা

  2. Pingback: ভার্চুয়ালাইজেশনের ফ্রী টুলস | টেকবাংলাটেকবাংলা

Leave a Reply

Connect with:



Your email address will not be published. Required fields are marked *