স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – আইওএস

পড়ুন – স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – এন্ড্রয়েড

আমরা আমাদের ফোনের স্টোরেজ ক্যপাসিটি নিয়ে বড়াই করে থাকি। আসুন আজকে আমরা এপল আইওএস স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা বলি।

আইওএস (আইফোন) – প্রথমত এর স্টোরেজ এ ইউজার এক্সেস নেই। অর্থাৎ আপনার আইফোনে যতই গিগ থাকুক না কেন, সেটা আপনি ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারবেন না। আপনি চাইলেই যেকোন কম্পিউটারে নিয়ে প্লাগিন করে সরাসরি ফাইল/ছবি/তথ্য কম্পিউটার থেকে আইফোনে বা আইফোন থেকে কম্পিউটারে নিতে পারবেন না। এটা সম্পুর্নরুপে একটা আর্টিফিশিয়াল লিমিটেশন। এর কোন টেকনিকাল ভিত্তি নেই। এপলের অজুহাত “নিরাপত্তার” খাতিরে আপনাকে আপনার পয়সায় কেনা স্টোরেজ আপনার ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে দিচ্ছেনা। ভাবুন তো গাড়ী কোম্পানীগুলো যদি বলে তোমাকে ঘন্টায় ১০ মাইলের বেশি বেগে চালাতে দেয়া হবেনা নিরাপত্তার খাতিরে, বা তারা যদি বলে যে রাস্তায় তোমাকে গাড়ী চালাতে দেয়া হবেনা কারন দূর্ঘটনা হতে পারে, তাহলে আপনার কেমন লাগবে? ব্যপারটা এমন নয় যে কেবলমাত্র স্টোরজে এক্সেস বন্ধ করে আইওএস একদম ১০০% নিরাপদ। বাস্তব হলো কোন সফটওয়্যারই ১০০% নিঁখুত নয়। কেউ না কেউ কোন এক পদ্ধতি বের করবেই। কাজেই স্টোরেজ এ এক্সেস বন্ধ করাটার কারণ বাণিজ্যিক। আপনারা জানেন আইফোন এর পাশাপাশি এপল মিউজিক বিক্রয় করে থাকে। আপনাকে সরাসরি স্টোরেজ এক্সেস দিলে আপনি হয়ত সেই কেনা ফাইলগুলো বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। মূলত এ কারনেই স্টোরেজে এ ঢুকতে দেয়া হয়না। সারমর্ম হলো, আইফোনের স্টোরজে সম্পুর্ণ শুধু গান আর ছবি তোলার জন্য। অন্য কোন কাজের জন্য এটাকে ব্যবহার করা খুবি দূরূহ।

আর এই স্টোরেজ এক্সেস না থাকার কারনে ব্লু-টুথ, এনএফসি ইত্যাদির মাধ্যমে সব ধরনের শেয়ারিং ও বন্ধ সেই একি “নিরাপত্তার” অজুহাতে। অতএব চাইলেই আপনি আপনার বন্ধুর আইফোনে কিছু পাঠাতেও পারবেন না আবার তাদের থেকে কিছু নিতেও পারবেন না। আপনি আপনার এন্ড্রয়েড থেকে যেকোন ফাইল (ছবি, গান, পিডিএফ যা ইচ্ছে তাই) আপনার আইফোন বন্ধুকে ইমেইল করে পাঠাতে পারবেন কিন্তু সে অনূরুপ করতে পারবেনা। সে কেবল ছবি ইমেইল করে পাঠাতে পারবে। এভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেবল ছবিই পাঠাতে পারবে আপনার কাছে। ভেবে দেখুন, পক্ষান্তরে আইফোনে যদি সঠিক ব্লু-টুথ সাপোর্ট থাকতো, তাহলে আপনারা সাথে সাথে ছবি শেয়ার করতে পারতেন। ফোন টু ফোন ডাইরেক্ট কানেকশান, কোন ইন্টারনেট লাগেনা কিন্তু আইফোনে এখন আপনার বন্ধুকে সেই ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করতে হবে, সেই ছবি আপনার কাছে এলে আপনাকে আবার সেটা ডাউনলোড করতে হবে। আবার দুজনের ইন্টারনেট কানেকশান ও লাগবে।

আরো একটি ব্যাপার হোলো, আইফোনের এপ স্টোরেজ স্যন্ডবক্সড। একটা উদাহরন দেই। ধরুন আইফোন আইওএস একটি ব্যঙ্ক। এক, এখানে শুধু টাকাই জমা দিতে পারবেন। দুই, এই ব্যঙ্কে যদিও বিভিন্ন টেলার রয়েছে, কিন্তু এদের একের অন্যের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। এরা একি ব্যঙ্কের, কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা। তিন, আপনি একদিন ব্যঙ্কে গিয়ে টাকা রেখে আসলেন নির্দিষ্ট একজন টেলারের কাছে। যতদিন ঠিক সেই টেলার থাকছে, ততদিন আপনার কোন সমস্যা হবেনা। ধরুন কোন কারনে তার চাকরী চলে গেছে। এবার কি হবে? এর মানে হোলো, টেলারের সাথে সাথে আপনার যে টাকা, সেটাও জলে গেলো। ওই টাকা আর ফেরত আসবেনা। এবার আসুন আমরা আইওএস এর সাথে এটিকে মিলিয়ে নেই। আইওএস এ কিছু কিছু এপ এ কেবলমাত্র আইটিউনসের মাধ্যমে ফাইল ঢুকানো যায়। যেমন আইফোনে এডবি রিডার ইন্সটল করলে, আপনি আইটিউনসে কানেক্ট করে কয়েকটা পিডিএফ ফাইল ঢুকাতে পারবেন। এই পিডিএফ ফাইলগুলো কিন্তু আইফোনের অন্য কোন এপ এ দেখা যাবেনা। কেবলমাত্র এডবি রিডারেই দেখা যাবে। আপনি একদিন ভুলবশত এডবি রিডার এপ টি ডিলিট করে দিলেন। এবারে এডবি রিডার তো ডিলিট হোলোই, এরসাথে পুর্বের ঢোকানো সব ফাইলও এর সাথে ডিলিট হয়ে যাবে। একবার চিন্তা করুন যদি সেই ফাইলগুলো খুব গুরুত্তপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে কি হবে? “এপ এর ভেতরে ফাইল / files inside app”, এভাবেই আইওএস এ নির্দিষ্ট কিছু ফাইল ঢোকানো হয়। এখন আবার এমন ভাববেন না যে আপনি চাইলেই যেকোন ফাইল ঢুকাতে পারবেন ইচ্ছেমত। লিমিটেড কিছু ফাইল ঢোকানো যাবে কিন্তু এপ ডিলিট হয়ে যাবার সম্ভাবনা তো থাকছেই, সাথে ফাইলগুলোও ডিলিট হবে কিন্তু। আপনি যদি গভীরভাবে ব্যপারটা চিন্তা করেন, এটা কিন্তু মারাত্মক হতে পারে, বিশেষত যখন ডিলিট হওয়া ফাইলগুলো আপনার জন্য খুবি দরকারী। নিন্মের ছবিতে দেখুন, এপগুলো আলাদা আলাদা, একে অন্যের সম্পর্কে জানেনা এবং তারা ডিলিট হয়ে গেলে তাদের ভেতরের যেসব ফাইল, সবি ডিলিট হয়ে যাবে। এন্ড্রয়েডে ফাইল এবং এপ আলাদা আলাদা। অর্থাৎ আপনার এপ যেখানেই যাবে যাক, আপনার ফাইলগুলো ইন্ট্যাক্ট থাকবে। মানে ধরুন আপনার সেই ব্যঙ্কের টেলার চলে গেল, কিন্তু আপনার টাকা ঠিকি থাকবে।

ক্লাউড এ যাবেন? ক্লাউড সার্ভিসগুলো (একমাত্র এপল আইক্লাউড ছাড়া) সব প্ল্যাটফর্ম এগনোস্টিক। ঠিক আছে আপনার ক্লাউড একাউন্টে যেকোন ফাইল আপলোড/স্টোর করে রাখতে পারবেন। কিন্তু আইফোনের স্যন্ডবক্সিং এর কারনে সেটা কোন কাজেই আসবেনা। এছাড়া ক্লাউড সার্ভিস ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে প্রতিবার ফাইল ডাউনলোড করা, আবার আপলোড করাতে ফোনের ব্যাটারীর পাশাপাশি ইন্টারনেট ও খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এটা কোন সমাধান নয়। ক্লাউডের প্রয়োজন আছে, অনেক ক্ষেত্রে ক্লাউড সার্ভিস ভীষণ কাজের কিন্ত সব কিছুর জন্য নয়।

অনেক আইফ্যান (iFan) রা আমাদের “এসব ফিচার দরকার নেই” বা “কেউ এসব ইউজ করেনা”। তারা কিন্তু কখনো করে দেখাতে পারেনা। সবকিছুতেই তাদের যুক্তি এ দুটি। এখন কথা হচ্ছে তারা পারেনা বলেই করেনা, নাকি আসলেই মুখ রক্ষার জন্য এই অজুহাত? ফিচার থাকলে তা কাজে আসে, ইচ্ছে হোলো ইউজ করলাম, না করলে করলাম না কিন্তু যখন কোন অপশনই নেই, তখন লেম এক্সকিউজ বের করা ছাড়া উপায় থাকেনা।

Share with:


2 thoughts on “স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – আইওএস

  1. Pingback: স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – এন্ড্রয়েড | টেকবাংলাটেকবাংলা

  2. Pingback: মোবাইল – কি কিনবো? কি কেনা উচিত? শপিং গাইড | টেকবাংলাটেকবাংলা

Leave a Reply

Connect with:



Your email address will not be published. Required fields are marked *