স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – এন্ড্রয়েড

পড়ুন – স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – আইওএস

এন্ড্রয়েডের আকর্ষণীয় একটি ফিচার হলো এসডি কার্ডের ব্যবহার। সব স্মার্টফোনেই নির্দিষ্ট একটি স্টোরেজ দেয়া থাকে। ছবি, গান, এপস ইত্যাদির কারনে অনেকের স্পেস খুব সহজেই ফুরিয়ে যায়। অত্যন্ত সস্তা হওয়ায় অনেকে এন্ড্রয়েডের স্টোরেজ ক্যপাসিটি বাড়ান এসডি কার্ড যুক্ত করে। এসডি কার্ড বিভিন্ন সাইজে এবং দামে পাওয়া যায়। ২০১৫ তে ১২৮গিগ এসডি কার্ডের দাম আমেরিকান ৭০ ডলারের মত, ৩২গিগ পাওয়া যায় ১৫ ডলারে, ৬৪ গিগ এর দাম ২০ থেকে ২৫ ডলার। যাই হোক, মূল বিষয় আরেকটি। জনপ্রিয় আইফোনে স্টোরেজ বরাবরি ফিক্সড। কোনভাবেই এটি আপগ্রেড করা যাবেনা। একমাত্র ভিন্ন মডেল আইফোন নিয়ে স্টোরেজ পালটানো যাবে। আজকের ব্লগের মূল বিষয় হলো স্মার্টফোনের যে স্পেস টা দেয়া হচ্ছে, এটা কে কিভাবে দিচ্ছে, কিভাবে সেটাকে কাজে লাগানো সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা করবো। ফোন স্টোরেজে এক্সেস থাকলে আপনি এটাকে পোর্টেবল হার্ড ড্রাইভ হিসেবে ইউজ করতে পারেন। আপনার দরকারী ফাইল পত্তর, গান, যা ইচ্ছে তাই ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন।

একটা উদাহরন দেই। ধরুন এন্ড্রয়েড একটি ব্যঙ্ক। এখানে আপনি কিছু টাকা জমা রেখে এলেন টেলারের কাছে। এবার সেই নির্দিষ্ট টেলার থাকুক বা না থাকুক, আপনার টাকা কিন্তু রয়েই যাবে ব্যঙ্কে। এবার এন্ড্রয়েডের সাথে এটিকে মিলিয়ে নি। এন্ড্রয়েডে ফাইল এবং এপ আলাদা আলাদা। অর্থাৎ আপনার এপ যেখানেই যাবে যাক, আপনার ফাইলগুলো ইন্ট্যাক্ট থাকবে। এন্ড্রয়েডের স্টোরেজে সরাসরি প্রবেশ করা যায়। অবশ্য অপারেটিং সিস্টেমের কিছু নির্দিষ্ট স্পেস আছে যেখানে ইউজার প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই কনসেপ্ট টা একদম পিসির মতো। আপনার ফাইল এক জায়গায় থাকবে, এপ্লিকেশন অন্য জায়গায়। আইওএস এ “এপ এর ভেতর ফাইল / files inside app” ঢোকানো লাগে, আর সেই এপ ডিলিট হয়ে গেলে সব ফাইলও হারিয়ে যাবে চিরতরে। আইওএস এ এটি অত্যন্ত লিমিটেড এবং বিপদজনক। ভুলবশপ আপনার এপ ডিলিট হতেই পারে, তাই বলে আপনার ফাইলগুলো ডিলিট হবে কেন? এটা কেবল আইওএস এই হয়।

এন্ড্রয়েড কিটক্যট (৪.৪) থেকে শুরু করে স্টোরজের জন্য এমটিপি প্রটোকল ব্যবহার করা শুরু করেছে। জেলিবিন ভার্সন (৪) এ ইউসবি ম্যাস স্টোরজে প্রটোকলে ছিল। এটাতে সুবিধে ছিল যে প্লাগিন করার পরে এটি একটি ড্রাইভ লেটারে পরিণত হতো। একদম একটা পেন ড্রাইভ/ইউএসবি ড্রাইভের মত। ড্রাইভ লেটার থাকার কারনে উইন্ডোজ ভিত্তিক অনেক সুবিধে পাওয়া যেতো। যেমন আপনি চাইলে কোন ব্যাচ ফাইল রান করে ফোনের সব ফাইল কপি করে নিতে পারেন, ফোন থেকে কম্পিউটারে বা কম্পিউটার থেকে ফোনে। এমটিপি প্রটোকলে যদিও ফাইল সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে, মুল সমস্যা হলো এটায় কোন ড্রাইভ লেটার থাকেনা। ফোন থেকে কোন ফাইল খুললে সেটা একবার লোকাল কপি তৈরি করবে, আবার সেটা ডিলিট করবে। একটু স্লো এবং প্রসেসিং নষ্ট করে। আর কোন অটোমেশন স্ক্রীপ্ট কম্পিউটার থেকে চালানো যায়না। গুগলের যুক্তি হলো এমটিপিতে ডাটা করাপশন হয়না। তবে যে প্রটোকলই ব্যবহৃত হোক না কেন, আইওএস এর মত লিমিটেড নয়। আপনি চাইলে যেকোন ফাইল/গান/ছবি একদম যা ইচ্ছে তাই এন্ড্রয়েড ফোনে স্টোর করে রাখতে পারবেন। নতুন এন্ড্রয়েড ভার্সনে স্টোরজে প্রটোকল ভিন্ন হলেও স্টোরেজ এখনো ইউজারের কন্ট্রোলে চলে। এমন নয় যে সাধারন ইউজার কে এভাবে ফাইল ম্যনেজার দিয়ে ঢুকে জটিল কিছু করা লাগবে। যারা চায়, তারা এক্সেস করবে স্টোরেজে এ। যারা চায়না তারা স্বাভাবিকভাবেই এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোন ব্যবহার করবে। মোট কথা হলো ইউজার অপশন রয়েছে।

শেয়ারিং এর জন্য এন্ড্রয়েডের চেয়ে আর ভালো কোন অপশন নেই আপাতত। যেহেতু আপনি বিভিন্ন ফাইল ম্যনেজারের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড স্পেস টা দেখতে পাচ্ছেন, আপনি চাইলে সেখান থেকে যেকোন ফাইল ব্লু-টুথ, এনফসি, ইমেইল, স্কাইপ, নেটওয়ার্ক, ইত্যাদির মাধ্যমে শেয়ার করতে পারবেন। এছাড়াও ধরুন ফেসবুকে কোন ছবি পছন্দ হোলো, সেটি আপনি সরাসরি সেখান থেকেই অন্য এপ যেমন ভাইবার, হোয়াটসএপ, ইমেইল ইত্যাদিতে শেয়ার করতে পারবেন।

নিচের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন “Solid Explorer” এপ দিয়ে কিভাবে এন্ড্রয়েড স্টোরেজ ম্যনেজ করা হচ্ছে। এটি ছাড়াও এন্ড্রয়েদের অন্যতম সেরা আরেকটি ফাইল ম্যনেজার হচ্ছে “ES File Explorer“. দুটোই পাবেন গুগল প্লে এপ স্টোর এ।

Share with:


2 thoughts on “স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – এন্ড্রয়েড

  1. Pingback: স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – আইওএস | টেকবাংলাটেকবাংলা

  2. Pingback: মোবাইল – কি কিনবো? কি কেনা উচিত? শপিং গাইড | টেকবাংলাটেকবাংলা

Leave a Reply

Connect with:



Your email address will not be published. Required fields are marked *