মোবাইল – কি কিনবো? কি কেনা উচিত? শপিং গাইড

বেশিরভাগ ব্যক্তিগত মোবাইল আজকাল একটি স্ট্যাটাস সিম্বল। কেউ কেউ আছেন স্বল্পদামী মোবাইল ব্যবহার করেন, কেউ নামি-দামী মোবাইল সেট পছন্দ করেন, কেউ বাহ্যিক আকারের কারনে ব্যবহার করেন, কেউ কেউ ফাংশানের জন্য ব্যবহার করে থাকেন। যার যা পছন্দ এবং প্রয়োজন সেভাবে তার মোবাইল সেট সিলেক্ট করে থাকেন। এখানে রাইট বা রং এর কিছুই নেই। সবকিছুর মূলে অবশ্য বাজেট। আমি দশ হাজার টাকার মোবাইল কিনবো নাকি ষাট হাজার টাকার মোবাইল কিনবো সেটা আমার উপরেই। বাজেট ঠিক হবার পরে কি কি ফিচার দেখা উচিত তা নিয়ে লিখছিঃ

ক্যমেরা – ছবি তোলা কে না পছন্দ করেন। ছবি অমূল্য। আপনার ফোন পাল্টাতে পারবেন এক নিমিষেই কিন্তু হারিয়ে যাওয়া ছবি আর পাবেন না। জীবনের সুন্দর মূহুর্তগুলো ক্যমেরাবন্দী করার জন্য ভালো ক্যমেরা চাই। মেগাপিক্সেলের পাশাপাশি লেন্স কোয়ালিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে খুব কম স্মার্টফোনেই অপটিকাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) রয়েছে। নোকিয়া/মাইক্রোসফটের আগামী কিছু ফোনে এ ফিচার থাকার কথা রয়েছে। তাই পছন্দের মোবাইলে জেনে নিন ক্যমেরা কার তৈরি, রিভিউ কেমন, কোয়ালিটি কেমন। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের দ্বারা লেখা ফোন ক্যমেরা রিভিউ দেখুন ডিপিরিভিউ (DP Review) এবং সেরা ক্যমেরা তালিকা দেখুন ডিএক্সও মার্ক (DxO Mark) এ। বর্তমানে সেরা দশ ক্যমেরা ফোন হলো (এক থেকে দশ) –

সনি এক্সপেরিয়া জি৫ > স্যমসাং এস৬ এজ > গুগল নেক্সাস ৬পি > এলজি জি৪ > স্যমসাং নোট ৪ > মোটোরলা এক্স স্টাইল > সনি এক্সপেরিয়া জি৩+ > এপল আইফোন ৬+ > এপল আইফোন ৬ > স্যমসাং এস৫

স্টোরেজ – আইফোনে এ স্টোরেজ ফিক্সড। কাজেই আইফোন কেনার আগে এ স্টোরেজ নিয়ে একটু ভেবে দেখবেন। এন্ড্রয়েড এবং উইন্ডোজ ফোনের স্টোরেজ ক্যপাসিটি মেমরি কার্ড দিয়ে খুব সহজেই এবং সস্তায় বাড়ানো যায় যেটা আইফোনে সম্ভব নয়। আপনি ফোন এ কি কি রাখতে চান? এক গাদা ফাইল? পোর্টেবল পেন ড্রাইভ বা হার্ড ড্রাইভ হিসেবে ব্যবহার করতে চান? ছবি? গান? ভিডিও? প্রশ্ন করুন নিজেকে। এন্ড্রয়েড স্টোরেজ এবং আইওএস স্টোরেজ নিয়ে বিস্তারিত জানতে এগুলো পড়ে নিন।

নেটওয়ার্ক – আপনি আপনার ডিভাইসটি কোথায় ব্যবহার করবেন? বাংলাদেশ? আমেরিকা? সেখানে ৩জি বা ৪জি নেটওয়ার্কের কোন কোন ফ্রিকোয়েন্সীতে চলে? আপনার সার্ভিস কোন ব্যন্ড এ চলে? আপনার সম্ভাব্য ফোনে সেই ব্যন্ডগুলো আছে তো? এসব তথ্য পাবেন ফোনের টেকনিকাল স্পেসিফিকেশন পেজ এ। ফোন ডাটাবেজ পিডিএডিবি (PDAdb) থেকেও পেতে পারেন এসব তথ্য। এছাড়াও ফোন এরেনা (PhoneArena) তে পাবেন আরো অনেক তথ্য এবং রিভিউ।

ব্যটারি লাইফ – আজকাল স্মার্টফোনে কেবল শুধু কথাই নয়, ছবি তোলা থেকে শুরু করে চ্যাটিং, ব্যঙ্কিং, শপিং সবকিছু হয়ে থাকে। আর এসবের জন্য চাই ভালো, দীর্ঘমেয়দী ব্যটারি লাইফ। বর্তমানে ফোনগুলো গড়ে একদিন চলে নরমাল্ ব্যবহারে। এখন আপনি যদি খুব হেভি ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার এটা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। সব সময় আপনি চার্জারের আশেপাশে থাকবেন? আলাদা ব্যটারী বা চার্জার সঙ্গে নিয়ে ঘুরবেন? আজকাল অবশ্য কিছু পোর্টেবল ব্যটারী “জুস প্যক” পাওয়া যায়। এগুলো দেখতে অনেকটা মোবাইল সেটের মতই, যেগুলো থেকে ইউএসবি তার দিয়ে আপনার মোবাইল রিচার্জ করা সম্ভব। হেভি ইউজারদের জন্য এটি আরেকটি বিকল্প।

সর্বশেষে একটা কথা বলতে চাই। সেটা হলো যারা পাওয়ার ইউজার আছেন, তাদের কাছে এন্ড্রয়েড প্লাটফর্ম পছন্দ হবে। এতে প্রচুর অপশন/ফিচার রয়েছে যেগুলো আইওএস এ কল্পনাতীত। আইওএস পাওয়ার ইউজারদের জন্য ভীষণভাবে লিমিটেড। মনে রাখবেন, “এন্ড্রয়েড” কোন ফোন নয়, এটা একটা প্লাটফর্ম। এন্ড্রয়েডে পাঁচ হাজার টাকার ফোন আছে আবার পঞ্চাশ হাজার টাকার ফোন ও আছে। এখন কেউ যদি স্বল্পদামী এন্ড্রয়েড ব্যবহার করে বলে থাকে যে এন্ড্রুয়েড ফালতু, স্লো, এটা কেবল তাদের অজ্ঞতারই প্রকাশ। এন্ড্রয়েড ব্যবহার খুবি সহজ। আপনি যেভাবে মন চায় সেভাবে পার্সোনালাইজড এবং কন্ট্রোল করতে পারবেন। এন্ড্রয়েড ভালো না লাগলে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ফোন অথবা এপল আইফোন নিতে পারেন। এগুলোর ব্যবহার ও সহজ। তবে উইন্ডোজে এ এপ্লিকেশন সংখ্যা একটু কম। যদিও উইন্ডোজ ১০ রিলিজের পর এটি অনেক বেড়ে যাবে। উইন্ডোজ বা আইওএস এগুলো কোনটাই এন্ড্রয়েডের মত ফিচার রিচ বা ফ্লেক্সিবল নয়। আপনি যদি শুধু গুটিকয়েক কাজের জন্য স্মার্টফোন নিয়ে থাকেন তাহলে আপনি এন্ড্রয়েড, আইওএস বা উউন্ডোজেই যান না কেন, সেটা খুব একটা প্রভাব ফেলবেনা। যখনি আপনি আপনার মত ইচ্ছেমত কিছু করতে যাবেন, তখনি আপনি এন্ড্রয়েডের ফ্লেক্সিবিলিটি আর আইওএস এর লিমিটেশন বুঝতে পারবেন।

Share with:


Leave a Reply

Connect with:



Your email address will not be published. Required fields are marked *