Category Archives: মোবাইল

বিভিন্ন মোবাইল বিষয়ক খবরাখবর নিয়ে সাজানো এই পেজ।

স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – এন্ড্রয়েড

Published by:

পড়ুন – স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – আইওএস

এন্ড্রয়েডের আকর্ষণীয় একটি ফিচার হলো এসডি কার্ডের ব্যবহার। সব স্মার্টফোনেই নির্দিষ্ট একটি স্টোরেজ দেয়া থাকে। ছবি, গান, এপস ইত্যাদির কারনে অনেকের স্পেস খুব সহজেই ফুরিয়ে যায়। অত্যন্ত সস্তা হওয়ায় অনেকে এন্ড্রয়েডের স্টোরেজ ক্যপাসিটি বাড়ান এসডি কার্ড যুক্ত করে। এসডি কার্ড বিভিন্ন সাইজে এবং দামে পাওয়া যায়। ২০১৫ তে ১২৮গিগ এসডি কার্ডের দাম আমেরিকান ৭০ ডলারের মত, ৩২গিগ পাওয়া যায় ১৫ ডলারে, ৬৪ গিগ এর দাম ২০ থেকে ২৫ ডলার। যাই হোক, মূল বিষয় আরেকটি। জনপ্রিয় আইফোনে স্টোরেজ বরাবরি ফিক্সড। কোনভাবেই এটি আপগ্রেড করা যাবেনা। একমাত্র ভিন্ন মডেল আইফোন নিয়ে স্টোরেজ পালটানো যাবে। আজকের ব্লগের মূল বিষয় হলো স্মার্টফোনের যে স্পেস টা দেয়া হচ্ছে, এটা কে কিভাবে দিচ্ছে, কিভাবে সেটাকে কাজে লাগানো সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা করবো। ফোন স্টোরেজে এক্সেস থাকলে আপনি এটাকে পোর্টেবল হার্ড ড্রাইভ হিসেবে ইউজ করতে পারেন। আপনার দরকারী ফাইল পত্তর, গান, যা ইচ্ছে তাই ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন।

একটা উদাহরন দেই। ধরুন এন্ড্রয়েড একটি ব্যঙ্ক। এখানে আপনি কিছু টাকা জমা রেখে এলেন টেলারের কাছে। এবার সেই নির্দিষ্ট টেলার থাকুক বা না থাকুক, আপনার টাকা কিন্তু রয়েই যাবে ব্যঙ্কে। এবার এন্ড্রয়েডের সাথে এটিকে মিলিয়ে নি। এন্ড্রয়েডে ফাইল এবং এপ আলাদা আলাদা। অর্থাৎ আপনার এপ যেখানেই যাবে যাক, আপনার ফাইলগুলো ইন্ট্যাক্ট থাকবে। এন্ড্রয়েডের স্টোরেজে সরাসরি প্রবেশ করা যায়। অবশ্য অপারেটিং সিস্টেমের কিছু নির্দিষ্ট স্পেস আছে যেখানে ইউজার প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই কনসেপ্ট টা একদম পিসির মতো। আপনার ফাইল এক জায়গায় থাকবে, এপ্লিকেশন অন্য জায়গায়। আইওএস এ “এপ এর ভেতর ফাইল / files inside app” ঢোকানো লাগে, আর সেই এপ ডিলিট হয়ে গেলে সব ফাইলও হারিয়ে যাবে চিরতরে। আইওএস এ এটি অত্যন্ত লিমিটেড এবং বিপদজনক। ভুলবশপ আপনার এপ ডিলিট হতেই পারে, তাই বলে আপনার ফাইলগুলো ডিলিট হবে কেন? এটা কেবল আইওএস এই হয়।

এন্ড্রয়েড কিটক্যট (৪.৪) থেকে শুরু করে স্টোরজের জন্য এমটিপি প্রটোকল ব্যবহার করা শুরু করেছে। জেলিবিন ভার্সন (৪) এ ইউসবি ম্যাস স্টোরজে প্রটোকলে ছিল। এটাতে সুবিধে ছিল যে প্লাগিন করার পরে এটি একটি ড্রাইভ লেটারে পরিণত হতো। একদম একটা পেন ড্রাইভ/ইউএসবি ড্রাইভের মত। ড্রাইভ লেটার থাকার কারনে উইন্ডোজ ভিত্তিক অনেক সুবিধে পাওয়া যেতো। যেমন আপনি চাইলে কোন ব্যাচ ফাইল রান করে ফোনের সব ফাইল কপি করে নিতে পারেন, ফোন থেকে কম্পিউটারে বা কম্পিউটার থেকে ফোনে। এমটিপি প্রটোকলে যদিও ফাইল সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে, মুল সমস্যা হলো এটায় কোন ড্রাইভ লেটার থাকেনা। ফোন থেকে কোন ফাইল খুললে সেটা একবার লোকাল কপি তৈরি করবে, আবার সেটা ডিলিট করবে। একটু স্লো এবং প্রসেসিং নষ্ট করে। আর কোন অটোমেশন স্ক্রীপ্ট কম্পিউটার থেকে চালানো যায়না। গুগলের যুক্তি হলো এমটিপিতে ডাটা করাপশন হয়না। তবে যে প্রটোকলই ব্যবহৃত হোক না কেন, আইওএস এর মত লিমিটেড নয়। আপনি চাইলে যেকোন ফাইল/গান/ছবি একদম যা ইচ্ছে তাই এন্ড্রয়েড ফোনে স্টোর করে রাখতে পারবেন। নতুন এন্ড্রয়েড ভার্সনে স্টোরজে প্রটোকল ভিন্ন হলেও স্টোরেজ এখনো ইউজারের কন্ট্রোলে চলে। এমন নয় যে সাধারন ইউজার কে এভাবে ফাইল ম্যনেজার দিয়ে ঢুকে জটিল কিছু করা লাগবে। যারা চায়, তারা এক্সেস করবে স্টোরেজে এ। যারা চায়না তারা স্বাভাবিকভাবেই এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোন ব্যবহার করবে। মোট কথা হলো ইউজার অপশন রয়েছে।

শেয়ারিং এর জন্য এন্ড্রয়েডের চেয়ে আর ভালো কোন অপশন নেই আপাতত। যেহেতু আপনি বিভিন্ন ফাইল ম্যনেজারের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড স্পেস টা দেখতে পাচ্ছেন, আপনি চাইলে সেখান থেকে যেকোন ফাইল ব্লু-টুথ, এনফসি, ইমেইল, স্কাইপ, নেটওয়ার্ক, ইত্যাদির মাধ্যমে শেয়ার করতে পারবেন। এছাড়াও ধরুন ফেসবুকে কোন ছবি পছন্দ হোলো, সেটি আপনি সরাসরি সেখান থেকেই অন্য এপ যেমন ভাইবার, হোয়াটসএপ, ইমেইল ইত্যাদিতে শেয়ার করতে পারবেন।

নিচের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন “Solid Explorer” এপ দিয়ে কিভাবে এন্ড্রয়েড স্টোরেজ ম্যনেজ করা হচ্ছে। এটি ছাড়াও এন্ড্রয়েদের অন্যতম সেরা আরেকটি ফাইল ম্যনেজার হচ্ছে “ES File Explorer“. দুটোই পাবেন গুগল প্লে এপ স্টোর এ।

স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – আইওএস

Published by:

পড়ুন – স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – এন্ড্রয়েড

আমরা আমাদের ফোনের স্টোরেজ ক্যপাসিটি নিয়ে বড়াই করে থাকি। আসুন আজকে আমরা এপল আইওএস স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা বলি।

আইওএস (আইফোন) – প্রথমত এর স্টোরেজ এ ইউজার এক্সেস নেই। অর্থাৎ আপনার আইফোনে যতই গিগ থাকুক না কেন, সেটা আপনি ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারবেন না। আপনি চাইলেই যেকোন কম্পিউটারে নিয়ে প্লাগিন করে সরাসরি ফাইল/ছবি/তথ্য কম্পিউটার থেকে আইফোনে বা আইফোন থেকে কম্পিউটারে নিতে পারবেন না। এটা সম্পুর্নরুপে একটা আর্টিফিশিয়াল লিমিটেশন। এর কোন টেকনিকাল ভিত্তি নেই। এপলের অজুহাত “নিরাপত্তার” খাতিরে আপনাকে আপনার পয়সায় কেনা স্টোরেজ আপনার ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে দিচ্ছেনা। ভাবুন তো গাড়ী কোম্পানীগুলো যদি বলে তোমাকে ঘন্টায় ১০ মাইলের বেশি বেগে চালাতে দেয়া হবেনা নিরাপত্তার খাতিরে, বা তারা যদি বলে যে রাস্তায় তোমাকে গাড়ী চালাতে দেয়া হবেনা কারন দূর্ঘটনা হতে পারে, তাহলে আপনার কেমন লাগবে? ব্যপারটা এমন নয় যে কেবলমাত্র স্টোরজে এক্সেস বন্ধ করে আইওএস একদম ১০০% নিরাপদ। বাস্তব হলো কোন সফটওয়্যারই ১০০% নিঁখুত নয়। কেউ না কেউ কোন এক পদ্ধতি বের করবেই। কাজেই স্টোরেজ এ এক্সেস বন্ধ করাটার কারণ বাণিজ্যিক। আপনারা জানেন আইফোন এর পাশাপাশি এপল মিউজিক বিক্রয় করে থাকে। আপনাকে সরাসরি স্টোরেজ এক্সেস দিলে আপনি হয়ত সেই কেনা ফাইলগুলো বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। মূলত এ কারনেই স্টোরেজে এ ঢুকতে দেয়া হয়না। সারমর্ম হলো, আইফোনের স্টোরজে সম্পুর্ণ শুধু গান আর ছবি তোলার জন্য। অন্য কোন কাজের জন্য এটাকে ব্যবহার করা খুবি দূরূহ।

আর এই স্টোরেজ এক্সেস না থাকার কারনে ব্লু-টুথ, এনএফসি ইত্যাদির মাধ্যমে সব ধরনের শেয়ারিং ও বন্ধ সেই একি “নিরাপত্তার” অজুহাতে। অতএব চাইলেই আপনি আপনার বন্ধুর আইফোনে কিছু পাঠাতেও পারবেন না আবার তাদের থেকে কিছু নিতেও পারবেন না। আপনি আপনার এন্ড্রয়েড থেকে যেকোন ফাইল (ছবি, গান, পিডিএফ যা ইচ্ছে তাই) আপনার আইফোন বন্ধুকে ইমেইল করে পাঠাতে পারবেন কিন্তু সে অনূরুপ করতে পারবেনা। সে কেবল ছবি ইমেইল করে পাঠাতে পারবে। এভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেবল ছবিই পাঠাতে পারবে আপনার কাছে। ভেবে দেখুন, পক্ষান্তরে আইফোনে যদি সঠিক ব্লু-টুথ সাপোর্ট থাকতো, তাহলে আপনারা সাথে সাথে ছবি শেয়ার করতে পারতেন। ফোন টু ফোন ডাইরেক্ট কানেকশান, কোন ইন্টারনেট লাগেনা কিন্তু আইফোনে এখন আপনার বন্ধুকে সেই ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করতে হবে, সেই ছবি আপনার কাছে এলে আপনাকে আবার সেটা ডাউনলোড করতে হবে। আবার দুজনের ইন্টারনেট কানেকশান ও লাগবে।

আরো একটি ব্যাপার হোলো, আইফোনের এপ স্টোরেজ স্যন্ডবক্সড। একটা উদাহরন দেই। ধরুন আইফোন আইওএস একটি ব্যঙ্ক। এক, এখানে শুধু টাকাই জমা দিতে পারবেন। দুই, এই ব্যঙ্কে যদিও বিভিন্ন টেলার রয়েছে, কিন্তু এদের একের অন্যের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। এরা একি ব্যঙ্কের, কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা। তিন, আপনি একদিন ব্যঙ্কে গিয়ে টাকা রেখে আসলেন নির্দিষ্ট একজন টেলারের কাছে। যতদিন ঠিক সেই টেলার থাকছে, ততদিন আপনার কোন সমস্যা হবেনা। ধরুন কোন কারনে তার চাকরী চলে গেছে। এবার কি হবে? এর মানে হোলো, টেলারের সাথে সাথে আপনার যে টাকা, সেটাও জলে গেলো। ওই টাকা আর ফেরত আসবেনা। এবার আসুন আমরা আইওএস এর সাথে এটিকে মিলিয়ে নেই। আইওএস এ কিছু কিছু এপ এ কেবলমাত্র আইটিউনসের মাধ্যমে ফাইল ঢুকানো যায়। যেমন আইফোনে এডবি রিডার ইন্সটল করলে, আপনি আইটিউনসে কানেক্ট করে কয়েকটা পিডিএফ ফাইল ঢুকাতে পারবেন। এই পিডিএফ ফাইলগুলো কিন্তু আইফোনের অন্য কোন এপ এ দেখা যাবেনা। কেবলমাত্র এডবি রিডারেই দেখা যাবে। আপনি একদিন ভুলবশত এডবি রিডার এপ টি ডিলিট করে দিলেন। এবারে এডবি রিডার তো ডিলিট হোলোই, এরসাথে পুর্বের ঢোকানো সব ফাইলও এর সাথে ডিলিট হয়ে যাবে। একবার চিন্তা করুন যদি সেই ফাইলগুলো খুব গুরুত্তপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে কি হবে? “এপ এর ভেতরে ফাইল / files inside app”, এভাবেই আইওএস এ নির্দিষ্ট কিছু ফাইল ঢোকানো হয়। এখন আবার এমন ভাববেন না যে আপনি চাইলেই যেকোন ফাইল ঢুকাতে পারবেন ইচ্ছেমত। লিমিটেড কিছু ফাইল ঢোকানো যাবে কিন্তু এপ ডিলিট হয়ে যাবার সম্ভাবনা তো থাকছেই, সাথে ফাইলগুলোও ডিলিট হবে কিন্তু। আপনি যদি গভীরভাবে ব্যপারটা চিন্তা করেন, এটা কিন্তু মারাত্মক হতে পারে, বিশেষত যখন ডিলিট হওয়া ফাইলগুলো আপনার জন্য খুবি দরকারী। নিন্মের ছবিতে দেখুন, এপগুলো আলাদা আলাদা, একে অন্যের সম্পর্কে জানেনা এবং তারা ডিলিট হয়ে গেলে তাদের ভেতরের যেসব ফাইল, সবি ডিলিট হয়ে যাবে। এন্ড্রয়েডে ফাইল এবং এপ আলাদা আলাদা। অর্থাৎ আপনার এপ যেখানেই যাবে যাক, আপনার ফাইলগুলো ইন্ট্যাক্ট থাকবে। মানে ধরুন আপনার সেই ব্যঙ্কের টেলার চলে গেল, কিন্তু আপনার টাকা ঠিকি থাকবে।

ক্লাউড এ যাবেন? ক্লাউড সার্ভিসগুলো (একমাত্র এপল আইক্লাউড ছাড়া) সব প্ল্যাটফর্ম এগনোস্টিক। ঠিক আছে আপনার ক্লাউড একাউন্টে যেকোন ফাইল আপলোড/স্টোর করে রাখতে পারবেন। কিন্তু আইফোনের স্যন্ডবক্সিং এর কারনে সেটা কোন কাজেই আসবেনা। এছাড়া ক্লাউড সার্ভিস ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে প্রতিবার ফাইল ডাউনলোড করা, আবার আপলোড করাতে ফোনের ব্যাটারীর পাশাপাশি ইন্টারনেট ও খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এটা কোন সমাধান নয়। ক্লাউডের প্রয়োজন আছে, অনেক ক্ষেত্রে ক্লাউড সার্ভিস ভীষণ কাজের কিন্ত সব কিছুর জন্য নয়।

অনেক আইফ্যান (iFan) রা আমাদের “এসব ফিচার দরকার নেই” বা “কেউ এসব ইউজ করেনা”। তারা কিন্তু কখনো করে দেখাতে পারেনা। সবকিছুতেই তাদের যুক্তি এ দুটি। এখন কথা হচ্ছে তারা পারেনা বলেই করেনা, নাকি আসলেই মুখ রক্ষার জন্য এই অজুহাত? ফিচার থাকলে তা কাজে আসে, ইচ্ছে হোলো ইউজ করলাম, না করলে করলাম না কিন্তু যখন কোন অপশনই নেই, তখন লেম এক্সকিউজ বের করা ছাড়া উপায় থাকেনা।

বাংলায় টাইপিং – কম্পিউটার এবং মোবাইল

Published by:

আমরা সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ধন্যবাদ দেয়া উচিত। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরুপ আমরা আজ কম্পিউটার এবং মোবাইলে সাবলীলভাবে বাংলা লিখতে পারছি। কম্পিউটারে কয়েকবছর আগেও বাংলা লিখার পদ্ধতি ছিল। তবে এখন বেশিরভাগ হয়েছে ফোনেটিক। ফোনেটিকের সুবিধে হলো আপনাকে বিশেষ কোন কিবোর্ড লেয়াউট মুখস্ত করে রাখা লাগেনা। বাংলায় “আমি” লিখতে হলে কেবল “ami” চেপে ফোনেটিক টাইপিং করা সম্ভব। ফোনেটিকের পাশাপাশি আরো ছিল – বিজয়, বৈশাখী, ন্যশনাল, মুনির, ইউনিজয়, প্রভাব, ইত্যাদি। এগুলো ছিল প্রোপ্রায়েটারী এবং লেয়াউটটা ছিল ভিন্নরকম। খুব সহজেই মুখস্ত না করে টাইপিং করার সুবিধা থাকায় ফোনেটিক পদ্ধতি অত্যন্ত জনপ্রিয়। আজ কম্পিউটার এবং মোবাইলে কিভাবে বাংলা টাইপিং করবেন তার সম্পর্কে লিখছি.

কম্পিউটারে বাংলা লিখনঃ

অভ্র কিবোর্ড (Avro Keyboard) – এ মূহুর্তে অভ্র কিবোর্ড সেরা। যদিও এটি ফুল ওয়ার্ড প্রসেসর নয়, তবুও এটার সুবিধা হচ্ছে আপনি কম্পিউটারের যেকোন এপ্লিকেশনের সাথে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এটি একটি সিস্টেম প্লাগিনের মত কাজ করে। অর্থাৎ কিবোর্ডে একটি কি চেপে বাংলা/ইংলিশে মোড পরিবর্তন করা হয়। ফলে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, আউটলুক, পাওয়ার পয়েন্ট, যেকোন ব্রাউজার ইত্যাদিতেই বাংলা লিখা সম্ভব। অভ্রর রয়েছে বিশাল এক সাপোর্ট কমিউনিটি। এছাড়াও অভ্র কিবোর্ড পাওয়া যাবে – উইন্ডোজ, ম্যকিন্টোশ, লিনাক্সের জন্য। আপনি চাইলে ইউএসবি ড্রাইভে এর পোর্টেবল ভার্সন ইন্সটল না করেই সরাসরি ব্যবহার করতে পারবেন। Avro Keyboard is highly recommended for computers.

বাংলা ওয়ার্ড (BanglaWord) – এটি একটি ফুল ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়ার। ফোনেটিকের মাধ্যমে সহজেই বাংলা ওয়ার্ড প্রসেসিং করতে পারবেন। যদিও এটি অনেকদিন আপডেট হয়নি, তবুও কাজ করে। এর দুটি ভার্সন রয়েছে। ফ্রী ভার্সনে কোন টাইম লিমিট বা কোন অপূর্নতা নেই। আরেকটি কমার্শিয়াল ভার্সন। দুটোই হুবহু একি। এর ডাউনলোড লিঙ্ক পেতে হলে আপনাকে Google এর শরনাপন্ন হতে হবে কারন মূল বাংলাওয়ার্ড সাইটের ডাউনলোড লিঙ্কগুলো অকেজো।

টি-বাংলা ওয়ার্ড প্রসেসর (T-Bangla Word Processor) – এটি জাভা বেসড ফোনেটিক/ইউনিজয় ওয়ার্ড প্রসেসর। যেহেতু জাভা বেসড, এটি উইন্ডোজ, ম্যক, এবং লিনাক্সে চলবে। চাইলে কিবোর্ড লেয়াউট পরিবর্তন করা সম্ভব। এর ডেভেলপার একুশের ওয়েবসাইটে এর পাশাপাশি আরো পাওয়া যাবে ফন্ট, ওয়েবসাইট বাংলা টুলস ইত্যাদি।

মোবাইলে বাংলা লিখনঃ

এন্ড্রয়েড – রিদ্মিক কিবোর্ড (Ridmik Keyboard) – এন্ড্রয়েডের সেরা বাংলা কিবোর্ড রিদ্মিক। খুবি লাইটওয়েট, ফাস্ট, ফ্রী, রিসোর্স খায়না বললেই চলে। সহজেই ইংলিশ/বাংলা মোডে পরিবর্তন করা যায় স্পেস বার স্লাইডিং করে। এতে ইংলিশ, বাংলা ফোনেটিক, প্রভাত, ন্যশনাল লেয়াউট রয়েছে। যেহেতু এটি এন্ড্রয়েড সিস্টেম কিবোর্ড, সেহেতু যেকোন এপ এ আপনি বাংলা টাইপ করতে পারবেন। এসএমএস, ফেসবুক, ভাইবার, ইমেইল, হোয়াটসএপ সবকিছুতে বাংলা লিখতে পারবেন। গুগল প্লে স্টোরে এর পাশাপাশি আরো কিছু বাংলা কিবোর্ড পাওয়া যাবে তবে সেগুলোর মধ্যে আরেকটি ভালো কিবোর্ড হোলো – Mayabi Keyboard. এ দুটোই আপাতত সেরা এন্ড্রয়েড বাংলা কিবোর্ড। রিদ্মিক ১ নম্বরে, মায়বী ২ এ।

আইওএস (Ridmik) – আইওএস ৮ এর আগ পর্যন্ত আইফোনে বাংলা লিখা খুবি বিরক্তিকর ছিল। বাংলা লিখার জন্য সম্পুর্ন আলাদা একটা এপ ইন্সটল করা লাগতো, সেখানে বাংলা লিখে সেটা কপি করে তারপর অন্যত্র পেস্ট করা লাগতো। আইওএস ৮ এ যখন অল্টারনেটিভ কিবোর্ড সাপোর্ট যুক্ত হয়, তখন এ সমস্যার সমাধান হয়। রিদ্মিক নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই যেহেতু একটু আগেই সেটা বর্ণনা করলাম। আইওএস এ ইন্সটল করে নিতে পারেন রিদ্মিক। আইটিউনসে এপ স্টোরে গিয়ে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন রিদ্মিক। আইওএস এ অল্টারনেটিভ কিবোর্ডে যে সমস্যা দেখেছি সেটা হলো মাঝে মাঝে আইফোন তার ডিফল্ট কিবোর্ডে চেঞ্জ হয়ে যায়। তখন আবার আপনাকে সেটিংস এ গিয়ে অল্টারনেটিভ কিবোর্ড সিলেক্ট করতে হয়। এটা কিন্তু রিদ্মিকের সমস্যা নয়, এটা যেকোন নন এপল কিবোর্ডে হয়।

আইফোন ৬এস/+ এখন সিম ফ্রী পাওয়া যাচ্ছে

Published by:

আইফোনের সর্বশেষ সংস্করন – আইফোন ৬এস এবং ৬এস+। গতকাল থেকে উত্তর আমেরিকার বাজারে এখন থেকে এটি পাওয়া যাচ্ছে সিম ফ্রী, আনলকড। আমেরিকায় সাধারনত মোবাইলগুলো অপারেটর লকড থাকে কারন ক্রেতারা ফোন এর জন্য ফুল পেমেন্ট করেন না। অর্থাৎ আপনি চাইলে লকড ভার্সন মাত্র ১৯৯ ডলারে নিতে পারবেন, কিন্তু আপনার মোবাইল অপারেটর ফোনটি লক করে রাখবে এবং অন্তত দুই বছর তাদের সার্ভিস নিতে হবে। অবশ্য ক্রেতারা এখন পালটে যাচ্ছেন। বর্তমানে অনেক ক্রেতাই ফুল পেমেন্ট করে তাদের ফোন কিনে থাকেন যাতে কোনরুপ কন্ট্রাক্টে যেতে না হয়। ৬এস পাবেন চারটি ভিন্ন রঙে – সিলভার, গোল্ড, রোজ গোল্ড এবং স্পেস গ্রে। অনেকেই ধারনা করেছিল যে অন্তত বেস মডেলটি ৩২গিগাবাইট থেকে শুরু হবে। অর্থাৎ ৩২, ৬৪, ১২৮ গিগাবাইট হবে ফোনগুলো। কিন্তু এপল তাদের বাণিজ্যিক কারনে অত্যন্ত সুচারুভাবে ৩২গিগাবাইট মডেলটী রিলিজ করেনি। কারন ৩২ মডেল থাকলে অনেক ক্রেতাই ৬৪ বা ১২৮ মডেলগুলো কিনবেন না। কিন্তু এখন ১৬গিগবাইট মডেল কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাই চিন্তা করবেন যে না, আমি ১০০ ডলার বেশি দিয়ে ৬৪ গিগাবাইট মডেলটাই কিনি। ৩২ গিগ মডেল বের না করার কোন টেকনিকাল কারন নেই। এপলের সর্বমোট $210 এর মত খরচ পরে প্রতিটি আইফোন তৈরি করতে।

আইফোন ৬এস এর মুল্য – ১৬ গিগাবাইট $649, ৬৪ গিগাবাইট $749 এবং ১২৮ গিগাবাইট $849

আইফোন ৬এস+ এর মুল্য – ১৬ গিগাবাইট $749, ৬৪ গিগাবাইট $849 এবং ১২৮ গিগাবাইট $949