Monthly Archives: October 2015

স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – এন্ড্রয়েড

Published by:

পড়ুন – স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – আইওএস

এন্ড্রয়েডের আকর্ষণীয় একটি ফিচার হলো এসডি কার্ডের ব্যবহার। সব স্মার্টফোনেই নির্দিষ্ট একটি স্টোরেজ দেয়া থাকে। ছবি, গান, এপস ইত্যাদির কারনে অনেকের স্পেস খুব সহজেই ফুরিয়ে যায়। অত্যন্ত সস্তা হওয়ায় অনেকে এন্ড্রয়েডের স্টোরেজ ক্যপাসিটি বাড়ান এসডি কার্ড যুক্ত করে। এসডি কার্ড বিভিন্ন সাইজে এবং দামে পাওয়া যায়। ২০১৫ তে ১২৮গিগ এসডি কার্ডের দাম আমেরিকান ৭০ ডলারের মত, ৩২গিগ পাওয়া যায় ১৫ ডলারে, ৬৪ গিগ এর দাম ২০ থেকে ২৫ ডলার। যাই হোক, মূল বিষয় আরেকটি। জনপ্রিয় আইফোনে স্টোরেজ বরাবরি ফিক্সড। কোনভাবেই এটি আপগ্রেড করা যাবেনা। একমাত্র ভিন্ন মডেল আইফোন নিয়ে স্টোরেজ পালটানো যাবে। আজকের ব্লগের মূল বিষয় হলো স্মার্টফোনের যে স্পেস টা দেয়া হচ্ছে, এটা কে কিভাবে দিচ্ছে, কিভাবে সেটাকে কাজে লাগানো সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা করবো। ফোন স্টোরেজে এক্সেস থাকলে আপনি এটাকে পোর্টেবল হার্ড ড্রাইভ হিসেবে ইউজ করতে পারেন। আপনার দরকারী ফাইল পত্তর, গান, যা ইচ্ছে তাই ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন।

একটা উদাহরন দেই। ধরুন এন্ড্রয়েড একটি ব্যঙ্ক। এখানে আপনি কিছু টাকা জমা রেখে এলেন টেলারের কাছে। এবার সেই নির্দিষ্ট টেলার থাকুক বা না থাকুক, আপনার টাকা কিন্তু রয়েই যাবে ব্যঙ্কে। এবার এন্ড্রয়েডের সাথে এটিকে মিলিয়ে নি। এন্ড্রয়েডে ফাইল এবং এপ আলাদা আলাদা। অর্থাৎ আপনার এপ যেখানেই যাবে যাক, আপনার ফাইলগুলো ইন্ট্যাক্ট থাকবে। এন্ড্রয়েডের স্টোরেজে সরাসরি প্রবেশ করা যায়। অবশ্য অপারেটিং সিস্টেমের কিছু নির্দিষ্ট স্পেস আছে যেখানে ইউজার প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই কনসেপ্ট টা একদম পিসির মতো। আপনার ফাইল এক জায়গায় থাকবে, এপ্লিকেশন অন্য জায়গায়। আইওএস এ “এপ এর ভেতর ফাইল / files inside app” ঢোকানো লাগে, আর সেই এপ ডিলিট হয়ে গেলে সব ফাইলও হারিয়ে যাবে চিরতরে। আইওএস এ এটি অত্যন্ত লিমিটেড এবং বিপদজনক। ভুলবশপ আপনার এপ ডিলিট হতেই পারে, তাই বলে আপনার ফাইলগুলো ডিলিট হবে কেন? এটা কেবল আইওএস এই হয়।

এন্ড্রয়েড কিটক্যট (৪.৪) থেকে শুরু করে স্টোরজের জন্য এমটিপি প্রটোকল ব্যবহার করা শুরু করেছে। জেলিবিন ভার্সন (৪) এ ইউসবি ম্যাস স্টোরজে প্রটোকলে ছিল। এটাতে সুবিধে ছিল যে প্লাগিন করার পরে এটি একটি ড্রাইভ লেটারে পরিণত হতো। একদম একটা পেন ড্রাইভ/ইউএসবি ড্রাইভের মত। ড্রাইভ লেটার থাকার কারনে উইন্ডোজ ভিত্তিক অনেক সুবিধে পাওয়া যেতো। যেমন আপনি চাইলে কোন ব্যাচ ফাইল রান করে ফোনের সব ফাইল কপি করে নিতে পারেন, ফোন থেকে কম্পিউটারে বা কম্পিউটার থেকে ফোনে। এমটিপি প্রটোকলে যদিও ফাইল সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে, মুল সমস্যা হলো এটায় কোন ড্রাইভ লেটার থাকেনা। ফোন থেকে কোন ফাইল খুললে সেটা একবার লোকাল কপি তৈরি করবে, আবার সেটা ডিলিট করবে। একটু স্লো এবং প্রসেসিং নষ্ট করে। আর কোন অটোমেশন স্ক্রীপ্ট কম্পিউটার থেকে চালানো যায়না। গুগলের যুক্তি হলো এমটিপিতে ডাটা করাপশন হয়না। তবে যে প্রটোকলই ব্যবহৃত হোক না কেন, আইওএস এর মত লিমিটেড নয়। আপনি চাইলে যেকোন ফাইল/গান/ছবি একদম যা ইচ্ছে তাই এন্ড্রয়েড ফোনে স্টোর করে রাখতে পারবেন। নতুন এন্ড্রয়েড ভার্সনে স্টোরজে প্রটোকল ভিন্ন হলেও স্টোরেজ এখনো ইউজারের কন্ট্রোলে চলে। এমন নয় যে সাধারন ইউজার কে এভাবে ফাইল ম্যনেজার দিয়ে ঢুকে জটিল কিছু করা লাগবে। যারা চায়, তারা এক্সেস করবে স্টোরেজে এ। যারা চায়না তারা স্বাভাবিকভাবেই এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোন ব্যবহার করবে। মোট কথা হলো ইউজার অপশন রয়েছে।

শেয়ারিং এর জন্য এন্ড্রয়েডের চেয়ে আর ভালো কোন অপশন নেই আপাতত। যেহেতু আপনি বিভিন্ন ফাইল ম্যনেজারের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড স্পেস টা দেখতে পাচ্ছেন, আপনি চাইলে সেখান থেকে যেকোন ফাইল ব্লু-টুথ, এনফসি, ইমেইল, স্কাইপ, নেটওয়ার্ক, ইত্যাদির মাধ্যমে শেয়ার করতে পারবেন। এছাড়াও ধরুন ফেসবুকে কোন ছবি পছন্দ হোলো, সেটি আপনি সরাসরি সেখান থেকেই অন্য এপ যেমন ভাইবার, হোয়াটসএপ, ইমেইল ইত্যাদিতে শেয়ার করতে পারবেন।

নিচের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন “Solid Explorer” এপ দিয়ে কিভাবে এন্ড্রয়েড স্টোরেজ ম্যনেজ করা হচ্ছে। এটি ছাড়াও এন্ড্রয়েদের অন্যতম সেরা আরেকটি ফাইল ম্যনেজার হচ্ছে “ES File Explorer“. দুটোই পাবেন গুগল প্লে এপ স্টোর এ।

স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – আইওএস

Published by:

পড়ুন – স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা – এন্ড্রয়েড

আমরা আমাদের ফোনের স্টোরেজ ক্যপাসিটি নিয়ে বড়াই করে থাকি। আসুন আজকে আমরা এপল আইওএস স্টোরেজ নিয়ে কিছু কথা বলি।

আইওএস (আইফোন) – প্রথমত এর স্টোরেজ এ ইউজার এক্সেস নেই। অর্থাৎ আপনার আইফোনে যতই গিগ থাকুক না কেন, সেটা আপনি ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে পারবেন না। আপনি চাইলেই যেকোন কম্পিউটারে নিয়ে প্লাগিন করে সরাসরি ফাইল/ছবি/তথ্য কম্পিউটার থেকে আইফোনে বা আইফোন থেকে কম্পিউটারে নিতে পারবেন না। এটা সম্পুর্নরুপে একটা আর্টিফিশিয়াল লিমিটেশন। এর কোন টেকনিকাল ভিত্তি নেই। এপলের অজুহাত “নিরাপত্তার” খাতিরে আপনাকে আপনার পয়সায় কেনা স্টোরেজ আপনার ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে দিচ্ছেনা। ভাবুন তো গাড়ী কোম্পানীগুলো যদি বলে তোমাকে ঘন্টায় ১০ মাইলের বেশি বেগে চালাতে দেয়া হবেনা নিরাপত্তার খাতিরে, বা তারা যদি বলে যে রাস্তায় তোমাকে গাড়ী চালাতে দেয়া হবেনা কারন দূর্ঘটনা হতে পারে, তাহলে আপনার কেমন লাগবে? ব্যপারটা এমন নয় যে কেবলমাত্র স্টোরজে এক্সেস বন্ধ করে আইওএস একদম ১০০% নিরাপদ। বাস্তব হলো কোন সফটওয়্যারই ১০০% নিঁখুত নয়। কেউ না কেউ কোন এক পদ্ধতি বের করবেই। কাজেই স্টোরেজ এ এক্সেস বন্ধ করাটার কারণ বাণিজ্যিক। আপনারা জানেন আইফোন এর পাশাপাশি এপল মিউজিক বিক্রয় করে থাকে। আপনাকে সরাসরি স্টোরেজ এক্সেস দিলে আপনি হয়ত সেই কেনা ফাইলগুলো বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন। মূলত এ কারনেই স্টোরেজে এ ঢুকতে দেয়া হয়না। সারমর্ম হলো, আইফোনের স্টোরজে সম্পুর্ণ শুধু গান আর ছবি তোলার জন্য। অন্য কোন কাজের জন্য এটাকে ব্যবহার করা খুবি দূরূহ।

আর এই স্টোরেজ এক্সেস না থাকার কারনে ব্লু-টুথ, এনএফসি ইত্যাদির মাধ্যমে সব ধরনের শেয়ারিং ও বন্ধ সেই একি “নিরাপত্তার” অজুহাতে। অতএব চাইলেই আপনি আপনার বন্ধুর আইফোনে কিছু পাঠাতেও পারবেন না আবার তাদের থেকে কিছু নিতেও পারবেন না। আপনি আপনার এন্ড্রয়েড থেকে যেকোন ফাইল (ছবি, গান, পিডিএফ যা ইচ্ছে তাই) আপনার আইফোন বন্ধুকে ইমেইল করে পাঠাতে পারবেন কিন্তু সে অনূরুপ করতে পারবেনা। সে কেবল ছবি ইমেইল করে পাঠাতে পারবে। এভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেবল ছবিই পাঠাতে পারবে আপনার কাছে। ভেবে দেখুন, পক্ষান্তরে আইফোনে যদি সঠিক ব্লু-টুথ সাপোর্ট থাকতো, তাহলে আপনারা সাথে সাথে ছবি শেয়ার করতে পারতেন। ফোন টু ফোন ডাইরেক্ট কানেকশান, কোন ইন্টারনেট লাগেনা কিন্তু আইফোনে এখন আপনার বন্ধুকে সেই ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করতে হবে, সেই ছবি আপনার কাছে এলে আপনাকে আবার সেটা ডাউনলোড করতে হবে। আবার দুজনের ইন্টারনেট কানেকশান ও লাগবে।

আরো একটি ব্যাপার হোলো, আইফোনের এপ স্টোরেজ স্যন্ডবক্সড। একটা উদাহরন দেই। ধরুন আইফোন আইওএস একটি ব্যঙ্ক। এক, এখানে শুধু টাকাই জমা দিতে পারবেন। দুই, এই ব্যঙ্কে যদিও বিভিন্ন টেলার রয়েছে, কিন্তু এদের একের অন্যের সাথে কোন যোগাযোগ নেই। এরা একি ব্যঙ্কের, কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা। তিন, আপনি একদিন ব্যঙ্কে গিয়ে টাকা রেখে আসলেন নির্দিষ্ট একজন টেলারের কাছে। যতদিন ঠিক সেই টেলার থাকছে, ততদিন আপনার কোন সমস্যা হবেনা। ধরুন কোন কারনে তার চাকরী চলে গেছে। এবার কি হবে? এর মানে হোলো, টেলারের সাথে সাথে আপনার যে টাকা, সেটাও জলে গেলো। ওই টাকা আর ফেরত আসবেনা। এবার আসুন আমরা আইওএস এর সাথে এটিকে মিলিয়ে নেই। আইওএস এ কিছু কিছু এপ এ কেবলমাত্র আইটিউনসের মাধ্যমে ফাইল ঢুকানো যায়। যেমন আইফোনে এডবি রিডার ইন্সটল করলে, আপনি আইটিউনসে কানেক্ট করে কয়েকটা পিডিএফ ফাইল ঢুকাতে পারবেন। এই পিডিএফ ফাইলগুলো কিন্তু আইফোনের অন্য কোন এপ এ দেখা যাবেনা। কেবলমাত্র এডবি রিডারেই দেখা যাবে। আপনি একদিন ভুলবশত এডবি রিডার এপ টি ডিলিট করে দিলেন। এবারে এডবি রিডার তো ডিলিট হোলোই, এরসাথে পুর্বের ঢোকানো সব ফাইলও এর সাথে ডিলিট হয়ে যাবে। একবার চিন্তা করুন যদি সেই ফাইলগুলো খুব গুরুত্তপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে কি হবে? “এপ এর ভেতরে ফাইল / files inside app”, এভাবেই আইওএস এ নির্দিষ্ট কিছু ফাইল ঢোকানো হয়। এখন আবার এমন ভাববেন না যে আপনি চাইলেই যেকোন ফাইল ঢুকাতে পারবেন ইচ্ছেমত। লিমিটেড কিছু ফাইল ঢোকানো যাবে কিন্তু এপ ডিলিট হয়ে যাবার সম্ভাবনা তো থাকছেই, সাথে ফাইলগুলোও ডিলিট হবে কিন্তু। আপনি যদি গভীরভাবে ব্যপারটা চিন্তা করেন, এটা কিন্তু মারাত্মক হতে পারে, বিশেষত যখন ডিলিট হওয়া ফাইলগুলো আপনার জন্য খুবি দরকারী। নিন্মের ছবিতে দেখুন, এপগুলো আলাদা আলাদা, একে অন্যের সম্পর্কে জানেনা এবং তারা ডিলিট হয়ে গেলে তাদের ভেতরের যেসব ফাইল, সবি ডিলিট হয়ে যাবে। এন্ড্রয়েডে ফাইল এবং এপ আলাদা আলাদা। অর্থাৎ আপনার এপ যেখানেই যাবে যাক, আপনার ফাইলগুলো ইন্ট্যাক্ট থাকবে। মানে ধরুন আপনার সেই ব্যঙ্কের টেলার চলে গেল, কিন্তু আপনার টাকা ঠিকি থাকবে।

ক্লাউড এ যাবেন? ক্লাউড সার্ভিসগুলো (একমাত্র এপল আইক্লাউড ছাড়া) সব প্ল্যাটফর্ম এগনোস্টিক। ঠিক আছে আপনার ক্লাউড একাউন্টে যেকোন ফাইল আপলোড/স্টোর করে রাখতে পারবেন। কিন্তু আইফোনের স্যন্ডবক্সিং এর কারনে সেটা কোন কাজেই আসবেনা। এছাড়া ক্লাউড সার্ভিস ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে প্রতিবার ফাইল ডাউনলোড করা, আবার আপলোড করাতে ফোনের ব্যাটারীর পাশাপাশি ইন্টারনেট ও খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে এটা কোন সমাধান নয়। ক্লাউডের প্রয়োজন আছে, অনেক ক্ষেত্রে ক্লাউড সার্ভিস ভীষণ কাজের কিন্ত সব কিছুর জন্য নয়।

অনেক আইফ্যান (iFan) রা আমাদের “এসব ফিচার দরকার নেই” বা “কেউ এসব ইউজ করেনা”। তারা কিন্তু কখনো করে দেখাতে পারেনা। সবকিছুতেই তাদের যুক্তি এ দুটি। এখন কথা হচ্ছে তারা পারেনা বলেই করেনা, নাকি আসলেই মুখ রক্ষার জন্য এই অজুহাত? ফিচার থাকলে তা কাজে আসে, ইচ্ছে হোলো ইউজ করলাম, না করলে করলাম না কিন্তু যখন কোন অপশনই নেই, তখন লেম এক্সকিউজ বের করা ছাড়া উপায় থাকেনা।

ভিএমওয়্যার ভার্চুয়ালাইজেশন টার্মিনোলোজি ১

Published by:

VMWare virtualization নিয়ে কাজ করতে গেলে কিছু টার্মিনোলোজি জানা প্রয়োজন। এত করে বুঝতে সুবিধে হবে।

Official VMWare Technical Publications Glossary: এখানে পাবেন বিশাল এক গ্লোসারী। (পিডিএফ লিঙ্ক)

আগেই উল্লেখ করেছি, একটি ভার্চুয়াল মেশিন মূলত এক গাদা ফাইল যেগুলো স্পেশাল একটি সফটওয়্যরের (হাইপারভাইজর) মাধ্যমে চলে। এই হাইপারভাইজরের কাজ হলো সফটওয়্যার -> হার্ডওয়্যারে পরিনত করে ভার্চুয়াল মেশিন চালু করা। ঠিক কোন কোন ফাইল মিলে একটি ভার্চুয়াল মেশিন তৈরি হয় এবং তাদের কাজ নিচে টেবিলাকারে দেয়া হলো। আসুন আরো কিছু টার্ম বোঝার চেষ্টা করি। নিচের ডায়াগ্রামটী লক্ষ্য করুনঃ

Host – হোস্ট হচ্ছে একটা অনেক পাওয়ারফুল সার্ভার (এটা ডেস্কটপ ও হতে পারে)। সাধারণত এতে প্রচুর প্রসেসিং পাওয়ার, মেমরি এবং ডিস্ক স্পেস থাকে। এটাতেই আমরা বিভিন্ন হাইপারভাইজর (যেমন – ভিএমওয়্যার ইএসএক্স বা মাইক্রোসফট হাইপার-ভী ইত্যাদি) ইন্সটল করে থাকি। আপনার নেটওয়ার্কে একাধিক হোস্ট থাকতে পারে। এই হোস্ট গুলোই আপনার গেস্ট ওএস (মানে ভার্চুয়াল মেশিনগুলোকে) সিপিইউ, র‍্যম, ডিস্ক স্পেস ইত্যাদি দেবে।

VM – এদের গেস্ট ও বলা হয়ে থাকে। ভার্চুয়াল মেশিনগুলো তাদের রিসোর্স তাদের হোস্ট থেকে নিয়ে থাকে। কয়েকটি ফাইল (টেবিল দেখুন) মিলিয়ে তৈরি হয় একেকটি ভিএম। নেটওয়ার্কে একাধিক হোস্ট থাকলে ভিএম কে সহজেই স্থানান্তরিত করা যায়।

Datastore – ডাটাস্টোর হচ্ছে যেখানে ফাইল, তথ্য, কনফিগারেশন, ইত্যাদি সেভ করা হয়। এই ডাটাস্টোর একটি সিঙ্গেল ডিস্ক থেকে হতে পারে, হতে পারে দশটি, বা বিশটি ডিস্কের সমন্বয়ে। ডাটাস্টোরগুলো হচ্ছে হোস্টের রিসোর্সগুলোর মধ্যে অন্যতম। সব ভিএম এসব স্টোরেই থাকে। আপনার নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ধরনের ডাটাস্টোর থাকতে পারে যেমন – নাস, আইস্কাজি, ফাইবার চ্যনেল স্যান, স্কাজি ইত্যাদি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গেস্ট ওএস কোন ধরনের ডাটাস্টোরে চলছে তার উপর কিছু নির্ভর করেনা তবে কিছু এপ্লিকেশন যেমন মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ স্যান স্টোরেজ এ রান করে।

নিচের ছবিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি এগুলো কিভাবে সব কানেক্টেড। দেখুন ভিএমগুলো (১,২,৩,৪) রয়েছে হোস্ট ১ এবং ২ তে। এই দুই হোস্ট আবার দুই ধরনের দুটি ডাটাস্টোরের সাথে যুক্ত। ডাটাস্টোর ১ এর সব স্টোরেজ আসছে শুধু কেবল ন্যাস (NAS) থেকে। পক্ষান্তরে ডাটাস্টোর ১ কিন্তু দুটি স্কাজি এবং একটি স্যান থেকে তার স্টোরেজ পাচ্ছে। এসবকিছুই আবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক অন্যের সাথে সংযুক্ত।

ইএসএক্স ৫.৫ ভার্চুয়াল ফাইলের বর্ণনাঃ
ফাইল ব্যবহার বিস্তারিত
.vmx <ভার্চুয়াল>.vmx মূল কনফিগারেশন ফাইল, খুবি গুরুত্বপূর্ণ, সব তথ্য এটাতে।
.vmxf <ভার্চুয়াল>.vmxf অতিরিক্ত কনফিগারেশন ফাইল।
.vmdk <ভার্চুয়াল>.vmdk ভার্চুয়াল ডিস্ক ফাইল। এটাই মেশিনের “হার্ড ড্রাইভ”। যত বেশি ব্যবহার হতে থাকে, এর সাইজ সেভাবে বাড়তে থাকে।
-flat.vmdk <ভার্চুয়াল>-flat.vmdk মেশিন ডাটা ডিস্ক।
.vmtm  <ভার্চুয়াল>.vmtm  টিম ডাটা সংক্রান্ত কনফিগারেশন ফাইল।
.vmem  <UUID>.vmem  মেশিনের পেজিং ফাইল। যতক্ষণ মেশিন রান হয়, ততস্থায়ী।
.nvram <ভার্চুয়াল>.nvram মেশিনের BIOS বা EFI কনফিগারেশন ফাইল।
.vmsd <ভার্চুয়াল>.vmsd স্ন্যপশটের মেটাডাটা সেভ থাকে এতে।
.vmsn <ভার্চুয়াল>.vmsn মূল স্ন্যপশট ফাইল।
.vswp <ভার্চুয়াল>.vswp ভার্চুয়াল সিস্টেমের swap ফাইল।
.vmss <ভার্চুয়াল>.vmss ভার্চুয়াল মেশিন সাসপেন্ড ফাইল।
.log vmware.log বর্তমান ভার্চুয়াল মেশিনের লগ ফাইল।
-#.log vmware-#.log পূরনো লগ ফাইল।

ভার্চুয়ালাইজেশন কি এবং কেন?

Published by:

ভার্চুয়ালাইজেশন কি এবং কেন ব্যাখ্যা না করেই ভার্চুয়াল হোম ল্যাব এবং ভার্চুয়ালাইজেশন টূলস নিয়ে আগেই লিখে ফেলেছি। স্বভাবতই যারা এই ক্ষেত্রে নতুন, তারা ভাববেন শুরুতেই ভার্চুয়ালাইজেশন কি তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

ভার্চুয়ালাইজেশন আর সিমুলেশন মূলত একি। কম্পিউটিং এর ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম তৈরি করা হয়। একে এমন একটা ইম্প্রেশন দেয়া হয় যে এটি রিয়াল হার্ডওয়্যারে চলছে কিন্তু বাস্তবে সবকিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমেই হচ্ছে। অর্থাৎ ভার্চুয়াল সিস্টেম কিন্তু বুঝতে পারেনা সেটি একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম। কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা অনেকেই কিন্তু পরোক্ষভাবে এই ভার্চুয়ালাইজেশন করেছেন এক সময় কিন্তু হয়ত এই টার্ম “ভার্চুয়ালাইজেশন” টার সাথে পরিচিত নন। উদাহরন – আমরা ডিস্ক পার্টিশন করেছি আগে। ডিস্ক পার্টিশন করে আমরা একটি ফিজিকাল ডিস্ককে দুই বা তিন ভাগে ভাগ করে নিতাম আরে সেটা উইন্ডোজে দুই বা তিনটে আলাদা ড্রাইভ হিসেবে দেখা যেতো। তারমানে হলো আমরা ওই একটা ফিজিকাল ড্রাইভ কে ভার্চুয়ালাইজ করেছি। বিশ্বখ্যাত VMWare কোম্পানী অনেক আগেই এই ভার্চুয়ালাইজেশনের ক্ষমতা বুঝতে পেরেছিল তাই তারা অনেক আগে থেকেই এই ফিল্ডে ডেভেলপিং শুরু করে। আমাদের সিপিইউ, র‍্যম বেশিরভাগ সময়েই আইডল পরে থাকে। সফটওয়্যরের মাধ্যমে এই আইডল রিসোর্স কে কাজে লাগিয়ে আমরা একি সাথে তিন চারটে অপারেটিং সিস্টেম একি ফিজিকাল কম্পিউটার থেকে চালাতে পারি। আমাকে আর পয়সা খরচ করে চারটে আলাদা কম্পিউটার কিনতে হচ্ছেনা। আর তাছাড়া যেহেতু সবকিছুই সফটওয়্যার বেসড, আমি চাইলে এই চারটে অপারেটিং সিস্টেম সহজেই অন্য আরেকটি কম্পিউটারে নিয়ে যেতে পারি। এগুলো তখন পোর্টেবল হয়ে যায়। একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম মুলত কয়েকটি বিশাল ফাইলের সংগ্রহ।

ডেস্কটপ অনেক আগে থেকেই ভার্চুয়ালাইজ করা হয়েছে। এরপর সার্ভার হোলো। তারপর স্টোরেজ এবং ইদানীং নেটওয়ার্কেও ভার্চুয়ালাইজেশন চলছে। একটি দুটি এপ্লিকেশন রানিং করার জন্য বারবার সার্ভার কেনা সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা বরং একটি পাওয়ারফুল সার্ভার কিনে নিয়ে সেটিতে অনেক ভার্চুয়াল সিস্টেম রান করে থাকে। এতে করে খরচ কমে, ব্যকাপ/রিস্টোর অনেক সহজেই হয়ে যায়। ভার্চুয়ালাইজেশনের সফলতার আরেকটি কারন হলো ওভার-কমিটমেন্ট। অর্থাৎ যেখানে আপনার সিস্টেম মাত্র ৮গিগ র‍্যাম, সেখানে আপনি হয়ত একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম তৈরি করলেন ১৬গিগ দিয়ে। এটা করা সম্ভব। যতক্ষণ না ঐ ভিএম তাকে দেয়া পূরো র‍্যাম ব্যবহার না করছে, আপনার সমস্যা হবেনা। একিভাবে স্টোরেজের ক্ষেত্রেও ওভার-কমিটমেন্ট করা যায়। যেহেতু ভার্চুয়ালাইজেশন মূলত কয়েকটি ফাইল, এটি অত্যন্ত সহজেই ম্যনেজ করা যায়। আরেকটি সুবিধা হলো এনার্জি সেভিংস। দশটী ফিজিকাল সার্ভার যে বিদ্যুত খরচ করবে, একটি বা দুটি সার্ভার আরো কম খরচে চলবে। অনেক কোম্পানী আজকাল তাদের এপ্লায়ান্সগুলোকে ভার্চুয়ালাইজ করে ফেলেছে। এতে তাদের খরচ তো কমছেই পাশাপাশি কাস্টমারদের সুবিধে হচ্ছে কারন তারাও কম খরচে এপ্লায়ান্স কিনতে পারছে। আরো রয়েছে টেস্টিং সার্ভার বা ডেস্কটপ সুবিধে। যখনি প্রয়োজন পড়বে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি ভার্চুয়াল সিস্টেম তৈরি করা যাবে। এটা খুবি ডিসপোজেবল।

দেখা যাচ্ছে ভার্চুয়ালাইজেশনের সুবিধে অনেক। আশাকরি ভার্চুয়ালাইজেশন সম্পর্কে কিছু ধারনা দিতে পেরেছি। কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। উপরোক্ত লেখাগুলো নিচে ছবির আকারে দেয়া হলো।

ভার্চুয়াল হোম ল্যাব সরঞ্জাম এবং খরচাপাতি

Published by:

পড়ূন – ভার্চুয়ালাইজেশন কি এবং কেন?

বাসায় একটি হোম ল্যাব তৈরির জন্য কি কি লাগবে তা নিয়ে আজকের ব্লগ। এটা নির্ভর করে আপনার চাহিদাটা কি? আপনি কি শখের বশে দুই/তিনটা আলাদা ওএস রানিং করতে চান? আপনি কি একটি পরিপূর্ণ ল্যাব তৈরি করতে চান? বাসায় নিজস্ব একটি মাইক্রোসফট এক্টিভ ডাইরেক্টরী বা এক্সচেঞ্জ ইমেইল রান করতে চান? আগে সিদ্ধান্ত নিন আপনার টার্গেট কি। তারপর সেভাবে সিস্টেম কনফিগার করা যাবে। ভার্চুয়ালাইজেশনের জন্য যে তিন/চারটে জিনিশ মেইন, আমি সে কয়েকটি নিয়ে লিখছি।

সিপিইউ – ইন্টেল সিপিইউ বেস্ট এটা সবাই জানেন। এফিসিয়েন্সি, পার্ফরম্যন্স, ফিচার সবদিক থেকে এএমডীর থেকে অনেক এগিয়ে ইন্টেল প্রসেসরগুলো। দৈনন্দিন কাজের জন্য বাজেট অনুযায়ী যেকোন ইন্টেল চিপ নিতে পারেন। তবে ভার্চুয়ালাইজেশনের জন্য কিনতে হলে কিছু ফিচার আছে যেগুলো দেখেই প্রসেসর টা কিনবেন। ফিচারগুলো হচ্ছে  VT-X এবং VT-D. এর মধ্যে প্রথমটি ভিটিএক্স বেশি দরকারী। ভিটিডী থাকলে ভালো, না থাকলে তেমন সমস্যা নেই। একান্তই যদি এএমডীর প্রসেসর কিনতে হয়, তাহলে ভার্চুয়ালাইজেশন সাপোর্ট আছে কিনা যাচাই করে কিনবেন। ইন্টেল প্রসেসর ফিচারগুলো দেখার জন্য আসুন ইন্টেল আর্ক এ (Intel ARK).

ডিস্ক স্পেস এবং টাইপ – ডিস্ক স্পেস নিয়ে অনেকের সমস্যা হবেনা আশাকরি। কারন ডিস্ক স্পেস এলোকেশনটা ভার্চুয়াল। অর্থাৎ আপনার ফিজিকাল ডিস্ক এ ধরুন মাত্র ২০গিবি খালি আছে, সেখানে কিন্তু আপনি একটা ভার্চুয়াল সিস্টেম তৈরি করে সেটাকে মনগড়া একটা ডিস্ক স্পেস দিতে পারেন। চাইলে ১০০গিবিও দিতে পারেন। যতক্ষণ না আপনার রিয়াল স্পেস ২০গিবি ব্যবহৃত না হচ্চে, ততক্ষণ কোন সমস্যা হবেনা। এবার বলি ডিস্ক টাইপের কথা। আমাদের বেশিরভাগ হোলো স্পিনিং ডিস্ক টাইপ, ৭২০০ আরপিএম। এগুলো দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ঠিক আছে। কিন্তু যখন ভার্চুয়াল সিস্টেম রানিং করবেন, তখন পার্ফরম্যন্স অনেক কমে যায় কারন এগুলোর রাইটিং স্পিড অনেক কম। তাহলে সমাধান কি? যদি সম্ভব হয়, তাহলে এসএসডি ব্যবহার করাই শ্রেয়। ৫০০গিবি স্পিনিং ডিস্কের চেয়ে ১০০গিবি এসএসডি ড্রাইভ অনেক কাজে আসে, বিশেষ করে ভার্চুয়ালাইজেশনের ক্ষেত্রে। সিস্টেমগুলো হবে অনেক দ্রুত। তাছাড়া আজকাল এসএসডির মুল্য অনেক হাতের নাগালে। আপনার বাজেটে যত বড় সম্ভব হয়, তত বড় এসএসডি ড্রাইভ নিতে পারেন। আমি ২৪০গিবি বা তার উপরে নিতে বলবো।

মেমরি / র‍্যাম অনেকটা ডিস্ক স্পেসের মতই র‍্যম নির্ভর করবে আপনি কি ধরনের সিস্টেম বানাতে চান। দুই/তিনটে ভার্চুয়াল সিস্টেমের জন্য ৮গিবি হলেই চলবে। তবে ৫/৬ টি ভিএম চালাতে গেলে ১৬গিবি প্রয়োজন হবে। এছাড়া একদম পরিপূর্ণ একটি ল্যাব তৈরির জন্য ৩২গিবি হলে বেস্ট হয়। এসএসডির মত মেমরিও আজকাল অনেক সস্তায় পাওয়া যায়। চাইলে সেকেন্ড হ্যন্ড/ইউজড মেমরিও কিনতে পারেন। ডিডিআর৪ যেহেতু লেটেস্ট, তার দাম একটু বেশি, তাই ডিডিআর৩ মেমরি নিলেও চলবে। অবশ্য ৩ নাকি ৪ এটা নির্ভর করবে আপনার মাদারবোর্ড এবং সিপিইউর উপর।

তাহলে ব্যপারটা হোলো– কি করতে চাই? এটা ঠিক করতে হবে আগে > তারপর আমার বাজেট কতো? আমি কি নতুন বিল্ড করবো নাকি আপগ্রেড করবো? > বাজেট অনুযায়ী মেমরি, সিপিইউ, ডিস্ক কেনা।