Monthly Archives: January 2016

কন্টাক্ট এবং ক্যলেন্ডার ম্যানেজমেন্ট

Published by:

পরিচিত লোকজন ছাড়াও আমরা নতুন কারু সাথে পরিচয় হওয়া লোকেদের নাম্বার আমরা সাধারণত আমাদের ফোন এ সেভ করি। কোন সমস্যা নেই এতে। কিন্তু আপনার সাধের এই ফোন নষ্ট হয়ে গেল, বা চুরি হয়ে গেল, বা হারিয়ে গেল। এবার কি হবে? আপনার ফোন তো গেলোই তার সাথে সেখানে সেভ করা সব তথ্যগুলোও চলে গেল। সবার ফোন নাম্বার হারালেন আপনি, সবার ছবি হারালেন। আপনি কিভাবে অতি সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন? আমি ধরে নিচ্ছি আপনার হ্যন্ডসেটটি একটি আধুনিক অপারেটিং সিস্টেম রান করে যেমন এন্ড্রয়েড বা উইন্ডোজ মোবাইল, ব্ল্যকবেরী বা আইওএস। আপনার নিশ্চয় আউটলুক ইমেইল, ইয়াহু মেইল, বা জিমেইল ইত্যাদি রয়েছে। আমরা সেখানেই সব কিছু করে নেব। বিস্তারিত আলোচনায় যাবার আগে ক্যলেন্ডার সম্পর্কে একটূ বলে নেই। গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো – জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট, জব ইন্টারভিউ ইত্যাদি জিনিসগুলো ক্যলেন্ডারে সেভ করতে হবে। এটা আবার কোন ক্যলেন্ডার? ভড়কে যাবেন না। আপনার ইমেইল একাউন্টের সাথে এই ক্যলেন্ডার ফিচারটিও আছে। আপনার যদি কয়েকটী ইমেইল একাউন্ট থাকে, তাহলে আপনি বেছে নিন কোন একাউন্ট আপনার মেইন একাউন্ট। আমরা সেটাতেই সব কিছু সেটাপ করে নেব। মূলত আপনি আপনার প্রিয় ইমেইল একাউন্টে কম্পিউটারে লগিন করে সব তথ্য (কন্টাক্ট, ক্যলেন্ডার ইভেন্ট ইত্যাদি) সেভ করে নেবেন। আধুনিক সব ইমেইল প্রোভাইডার এসব ফিচার দিয়ে থাকে। আপনার প্রোভাইডার এর ইন্সট্রাকশন দেখতে পারেন এ বিষয়ে। আপনার ফোন এ যদি ২০০ টি নাম্বার সেভ করা থাকে, তাহলে কি আপনাকে জিমেইলে (বা অন্য ইমেইল একাউন্টে) লগিন করে কি ২০০ বার টাইপিং করে সেভ করা লাগবে? ভয় পাবেন না। এন্ড্রয়েড ফোন এ আপনি কন্টাক্টগুলো ফোন থেকে “এক্সপোর্ট” করে একটা ফাইল হিসেবে সেভ করে নিতে পারেন। এরপর জিমেইলে সেই ফাইলটী “ইম্পোর্ট” করে নিন। সঠিকভাবে করার পরে আপনার ২০০ কন্টাট ইনফরমেশন জিমেইলে কোন টাইপিং ছাড়াই সেভ হয়ে যাবে। যাই হোক, এবার তো আপনি বর্তমান ২০০ কন্টাক্ট সেভ করে নিলেন। ধরুন আজকে নতুন কারো সাথে পরিচিত হলেন। তার নাম্বার কি ফোন এ সেভ করবেন নাকি জিমেইলে? উত্তর হবে – অবশ্যই জিমেইল। কারন অনেক। এক হলো আপনার ফোনের যাই হোক, একবার জিমেইলে সেভ করে নিলে, সেই কন্টাক্ট আর হারাবেনা। আরো একটি সুবিধা হলো আপনার যদি মাল্টিপল ডিভাইস থাকে (একাধিক হ্যন্ডসেট বা ট্যাবলেট), যখনি আপনি একি জিমেইল দিয়ে লগিন করবেন, তখন সব কন্টাক্ট আপনার সেই ডিভাইসে চলে আসবে। আলাদাভাবে ৫ টি হ্যন্ডসেট এ সেভ করা লাগেনা। এটাও অনেক বড় সুবিধা। কন্টাক্ট এর মত একিভাবে আপনি বিভিন্ন ক্যলেন্ডার ইভেন্ট সেভ করে নিন জিমেইল এ। সিঙ্ক করার পর আপনার সব ডিভাইসে কন্টাক্ট এবং ক্যলেন্ডার ইভেন্ট চলে আসবে।

ইন্টারনেট ব্রাউজারে প্রাইভেসী রক্ষার উপায়

Published by:

বন্ধুরা, আগেই কুকিজ নিয়ে একটু লিখেছিলাম। কুকিজ হচ্ছে কিছু টেক্সট ফাইল যেগুলো আপনি বিভিন ওয়েবসাইটে যাবার পরে কম্পিউটারে সেভ হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম এবং ভিন্ন ব্রাউজারে কুকিজ গুলো বিভিন্ন ডাইরেক্টরিতে সেভ করা থাকে। কুকিজ প্রযুক্তিটা খারাপ না কিন্তু একে এবিউজ করা যায়। সচেতন ওয়েবসাইট এডমিন আপনার কম্পিউটারে কুকি সেট করলেও তা এমনভাবে করবে যা একদিন বা একটা নির্দিষ্ট সময় পরে অকেজো হয়ে পড়ে বা ডিলিট হয়ে যাবে। আবার কিছু কুকিজ স্থায়ীভাবে থেকে যাবার চেষ্টা করবে এবং আপনার ব্রাউজিং এক্টিভিটি মনিটরিং করবে। এগুলো বেশিরভাগই টার্গেটেড এডভার্টাইজিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও আপনি একটি সাইট ভিজিট করলেও, আরেকটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সাইটও কিন্তু আপনার কম্পিউটারে কুকি সেট করতে পারে যদি আপনার ভিজিট করা সেই সাইটে অন্য থার্ড পার্টি সাইটের লিঙ্ক থাকে। এটা ঘটে আপনারি অজান্তে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিন্তু আপনি চাইলে এটা কন্ট্রোল করতে পারেন যদিও ঠিক কোন সাইট তা আপনার অজানা রয়ে যাবে কিন্তু আপনি ব্রাউজারে সেটিং করে দিলে এই থার্ড পার্টি কুকিজ আর সেভ হবেনা আপনার কম্পিউটারে। দু’একটি ক্ষেত্র ছাড়া, আপনি থার্ড পার্টি কুকি বন্ধ করলেও কোন সমস্যা হবেনা। আপনার প্রয়োজনীয় একটি সাইট যদি থার্ড পার্টি কুকিজ ব্যবহার করে থাকে, তাহলে আপনি চাইলে কেবলমাত্র সেই সাইটটিকে ট্রাস্টেড হিসেবে গন্য করে তা থেকে কুকিজ এক্সেপ্ট করতে পারেন।

মিউজিক ফাইল ট্যাগিং

Published by:

ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশাল এক বাংলা গানের ভান্ডার আছে। অনেক বছর ধরে সংগ্রহ করা এই কালেকশানে আছে নতুন/পূরনো/ক্লাসিক/মেটাল/পপ/রক/সিনেমা সব ধরনের গান। যাই হোক, অলসতার কারনে বা সময়ের অভাবে আমি যথার্থভাবে সব ফাইলগুলো ট্যাগিং করতে পারিনি। মিনিমাম ফোল্ডার করে ফাইলগুলো মোটামুটি গানের কলি দিয়ে নামকরন করা হয়েছে। এখন ট্যাগিং করতে চাইছি। ট্যাগিং টা যদিও অপশোনাল কিন্তু এটি অনেক কাজে আসে। আপনার ফোন, মিডিয়া প্লেয়ার এসব কিন্তু ফাইল নেম কে এড়িয়ে ট্যাগিং টা প্রথমে রিড করে। তাই ঠিকমতো ট্যাগিং করা না থাকলে যখন আপনি ফাইলগুলো ফোনে কপি করবেন বা মিডিয়া প্লেয়ারে চালাতে যাবেন, তখন অনাকাংখিতভাবে এদিক সেদিক হতে পারে। উদাহরন হিসেবে বলতে পারি যেমন একি গান কিন্তু একাধিক শিল্পী গাইতেই পারেন। আপনি কেবল যদি ফাইলনেম দিয়ে থাকেন, দুটো ফাইলই একি সাথে থাকবে। ট্যাগিং করে দিলে আপনি আর্টিস্ট, বা এলবাম এসব দিক দিয়ে সর্টিং করতে পারবেন। আমার কালেকশন বেশ বড় হওয়ায় অনেক ঝামেলা হয়। তাই অনেক হন্যে হয়ে ভালো একটা ট্যাগিং প্রোগ্রাম খুঁজে নিয়েছি। এর নাম TagScanner এবং এর সর্বশেষ ভার্সন 6.01 (জানুয়ারী ২০১৬) তে মুক্তিপ্রাপ্ত।

এটি ফ্রী সফটওয়্যার। প্রথমে ইন্টারফেস দেখে ভয় পাবার কারন নেই। এটি অনেক পাওয়ারফুল প্রোগ্রাম। যদিও আপনি হয়ত কেবলমাত্র দুএকটি ফাংশন ব্যবহার করবেন। আপনার পরিস্থিতি হয়ত আমার থেকে আলাদা। হয়ত আপনি ফাইলগুলো কোন জেনেরিক নাম (Track01.mp3, Music01.mp3 ইত্যাদি) দিয়ে রেখে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আপনার যদি ট্যাগিং ঠিকমত করা থাকে, তাহলে সহজেই ট্যাগিং থেকে ফাইলগুলো রিনেম করতে পারবেন। আবার যদি ধরুন আপনার যথার্থ ট্যাগিং নেই কিন্তু আপনি অন্তত আমার মত ফাইলগুলো ঠিক মত নামে সেভ করেছেন (Amar Shonar Bangla.mp3 বা Bhalobashi Bhalobashi.mp3), এক্ষেত্রে আপনি ফাইলনেম থেকে ট্যাগিং জেনারেট করতে পারবেন।

১। শুরুতে আপনাকে Path ফিল্ডে যেখানে মিডিয়া ফাইলগুলো আছে, সেটা পেস্ট করুন যেমন – D:\moved\music\[BANGLA]\Sumon Chattopadhay\

২। এরপর উপরে EDIT অপশন এ গিয়ে ডান পাশে দেখুন অনেকগুলো ফিল্ড আছে। আমি কেবল বেসিক আর্টিস্ট এবং টাইটেল দিতে চাই। এলবাম যেটাই হোক, আর্টিস্ট তো একি। তাই আর্টিস্ট এর নাম দিয়ে দিন। এডিট অপশন থেকে অন্তত এই ফিল্ডটি আপডেট করতে পারেন।

৩। আপনার ফাইলগুলো যদি ঠিকমত নামকরন করা হয়ে থাকে, তাহলে এবার GENERATE অপশন এ আসুন ফাইলনেম থেকে ট্যাগিং করার জন্য। এখানে আবার ডানে দেখুন “Generate tag from filename” অপশন আছে। এটি মূলত আপনার ফাইলনেম রিড করে সেটাকে “Title” ট্যাগ এ পরিণত করবে। আপনার ফাইল ঠিকমত না হলে এটি তেমন কাজে আসবেনা।

ট্যাগ স্ক্যানার মেইন স্ক্রীন

অনলাইন/অফলাইন প্রাইভেসী (যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের জন্য)

Published by:

আমেরিকাতে হরেক রকমের বিজনেস রয়েছে। আপনার অজান্তেই আপনার সকল তথ্য হাজারো কোম্পানীর কাছে বিক্রয় হয়ে থাকে। আপনার নাম, ঠিকানা, আপনি সাধারণত কি কি কিনে থাকেন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে, আপনি টিভিতে কোন চ্যনেল বেশি পছন্দ করেন ইত্যাদি সব তথ্য এক কোম্পানী আরেক কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে। এরপর তারা আপনার নাম্বারে কল দিয়ে বা চিঠি পাঠিয়ে তাদের পণ্য কেনার জন্য উৎসাহিত করে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে আপনার তো কন ক্ষতি হচ্ছেনা এসবে। কিন্তু কেন আপনি আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো হাজারো কোম্পানীর কাছে দেবেন? এটাকে কিভাবে বন্ধ করা সম্ভব? আপনারা হয়ত লক্ষ্য করেছেন, আপনি একদিন ধরুন amazon.com এ গিয়ে নোকিয়া বা মোটোরলা ফোন সম্পর্কে ব্রাউজিং করলেন, কয়েকটি মডের দরদাম দেখলেন। ভালো কথা। কদিন পরে আপনি ফেসবুকে লগিন করেই খেয়াল করলেন যে আপনাকে মোবাইল সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে। ফেসবুক কিভাবে জানলো যে আপনি মোবাইল সম্পর্কে আগ্রহী? এগুলো হচ্ছে এগ্রেগেটেড টার্গেটেড এডভার্টাইজিং। আমেরিকাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার তথ্য মোবাইল এবং ক্রেডিট কার্ড কোম্পানী থেকে হাজারো কোম্পানীতে চলে যায়। এটাকে প্রতিহত করার জন্য আমেরিকার সরকার জনগন কে কয়েকটি অপশন দিয়েছে। উল্লেক্ষ্য, এখানে প্রথম সাইটটি সবার কাজে আসবে, এমনকি যারা বাংলাদেশ থাকেন, তারাও এটিতে গিয়ে কিছুটা প্রাইভেসি রক্ষা করতে পারেন।

১। http://www.aboutads.info/choices/ – আপনার কম্পিউটারে হাজারো “কুকিজ” রয়েছে। এগুলো দ্বারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট আপনাকে ট্র্যকিং করে। কিছু কুকিজ সাথে সাথে মুছে যায়, কিছু রয়ে যায় অনেকদিন। এই কুকিজগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইট আপনার কম্পিউটারে সেভ করে রাখে। আপনি যেকোন সাইটে গেলেন, সেই সাইটের মাধ্যমে কিন্তু অন্য আরেকটি সাইট আপনার কম্পিউটারে কুকি সেভ করে নিতে পারে যদিও সেই সাইট টা কি তা আপনি মোটেই জানেন না। এগুলোকে থার্ড পার্টি কুকি বলা হয়। যাই হোক, উপরোক্ত লিঙ্কে গিয়ে আপনি আপনার ব্রাউজারে উল্লেখ করে দিতে পারেন যে এসব থার্ড পার্টি কুকি আপনার কাছে অনাকাংখিত এবং এগুলো যাতে ভবিষ্যতে আর সেভ না নয়, তা সিলেক্ট করে দিন। আগেই বলেছি এখানে বাংলাদেশি সহ সবাই এখানে যেতে পারেন। এছাড়াও প্রতিটি ব্রাউজার সেটিংস এ থার্ড পার্টি কুকি নিয়ে সেটিংস আছে যা সাধারনত প্রাইভেসী সেকশন এ পাবেন। আপনার কম্পিউটারে যদি ওপেরা, ক্রোম বা ফায়ারফক্স থাকে, মনে রাখবেন প্রতিটি ব্রাউজার দিয়ে অন্তত একবার হলেও এই লিঙ্কে যেতে হবে। (পড়ুন – ইন্টারনেট ব্রাউজারে প্রাইভেসী রক্ষার উপায়)

২। https://www.donotcall.gov/ – আমেরিকার মোবাইল কোম্পানি থেকে অন্যরা আপনার নাম, ঠিকানা, নাম্বার নিয়ে আপনাকে অনবরত কল দিতেই থাকে। এসব প্রতিহত করার জন্য আপনি এখানে গিয়ে আপনার ফোন নাম্বার রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। এখানে রেজিস্ট্রেশন করার পরে টেলিমার্কেটাররা আর আপনাকে আইনানুযায়ী কোন কল দিতে পারবেনা। যদি দেয়, আপনি এদের বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারবেন একি সাইটে।

৩। https://www.optoutprescreen.com/ – আরেকটি মাধ্যমে মার্কেটিং কোম্পানীরা আপনার তথ্য নিয়ে থাকে যেটা হলো আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যুরো থেকে। কয়েকটি ক্রেডিট ব্যুরো রয়েছে যেগুলো আপনার ক্রেডিট সম্পর্কিত তথ্য অন্যন্যদের কাছে বিক্রি করে। আপনার তথ্য নিরাপদ রাখতে এখানে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।