Tag Archives: মোবাইল

অনলাইন/অফলাইন প্রাইভেসী (যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের জন্য)

Published by:

আমেরিকাতে হরেক রকমের বিজনেস রয়েছে। আপনার অজান্তেই আপনার সকল তথ্য হাজারো কোম্পানীর কাছে বিক্রয় হয়ে থাকে। আপনার নাম, ঠিকানা, আপনি সাধারণত কি কি কিনে থাকেন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে, আপনি টিভিতে কোন চ্যনেল বেশি পছন্দ করেন ইত্যাদি সব তথ্য এক কোম্পানী আরেক কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে। এরপর তারা আপনার নাম্বারে কল দিয়ে বা চিঠি পাঠিয়ে তাদের পণ্য কেনার জন্য উৎসাহিত করে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে আপনার তো কন ক্ষতি হচ্ছেনা এসবে। কিন্তু কেন আপনি আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো হাজারো কোম্পানীর কাছে দেবেন? এটাকে কিভাবে বন্ধ করা সম্ভব? আপনারা হয়ত লক্ষ্য করেছেন, আপনি একদিন ধরুন amazon.com এ গিয়ে নোকিয়া বা মোটোরলা ফোন সম্পর্কে ব্রাউজিং করলেন, কয়েকটি মডের দরদাম দেখলেন। ভালো কথা। কদিন পরে আপনি ফেসবুকে লগিন করেই খেয়াল করলেন যে আপনাকে মোবাইল সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে। ফেসবুক কিভাবে জানলো যে আপনি মোবাইল সম্পর্কে আগ্রহী? এগুলো হচ্ছে এগ্রেগেটেড টার্গেটেড এডভার্টাইজিং। আমেরিকাতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার তথ্য মোবাইল এবং ক্রেডিট কার্ড কোম্পানী থেকে হাজারো কোম্পানীতে চলে যায়। এটাকে প্রতিহত করার জন্য আমেরিকার সরকার জনগন কে কয়েকটি অপশন দিয়েছে। উল্লেক্ষ্য, এখানে প্রথম সাইটটি সবার কাজে আসবে, এমনকি যারা বাংলাদেশ থাকেন, তারাও এটিতে গিয়ে কিছুটা প্রাইভেসি রক্ষা করতে পারেন।

১। http://www.aboutads.info/choices/ – আপনার কম্পিউটারে হাজারো “কুকিজ” রয়েছে। এগুলো দ্বারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট আপনাকে ট্র্যকিং করে। কিছু কুকিজ সাথে সাথে মুছে যায়, কিছু রয়ে যায় অনেকদিন। এই কুকিজগুলো বিভিন্ন ওয়েবসাইট আপনার কম্পিউটারে সেভ করে রাখে। আপনি যেকোন সাইটে গেলেন, সেই সাইটের মাধ্যমে কিন্তু অন্য আরেকটি সাইট আপনার কম্পিউটারে কুকি সেভ করে নিতে পারে যদিও সেই সাইট টা কি তা আপনি মোটেই জানেন না। এগুলোকে থার্ড পার্টি কুকি বলা হয়। যাই হোক, উপরোক্ত লিঙ্কে গিয়ে আপনি আপনার ব্রাউজারে উল্লেখ করে দিতে পারেন যে এসব থার্ড পার্টি কুকি আপনার কাছে অনাকাংখিত এবং এগুলো যাতে ভবিষ্যতে আর সেভ না নয়, তা সিলেক্ট করে দিন। আগেই বলেছি এখানে বাংলাদেশি সহ সবাই এখানে যেতে পারেন। এছাড়াও প্রতিটি ব্রাউজার সেটিংস এ থার্ড পার্টি কুকি নিয়ে সেটিংস আছে যা সাধারনত প্রাইভেসী সেকশন এ পাবেন। আপনার কম্পিউটারে যদি ওপেরা, ক্রোম বা ফায়ারফক্স থাকে, মনে রাখবেন প্রতিটি ব্রাউজার দিয়ে অন্তত একবার হলেও এই লিঙ্কে যেতে হবে। (পড়ুন – ইন্টারনেট ব্রাউজারে প্রাইভেসী রক্ষার উপায়)

২। https://www.donotcall.gov/ – আমেরিকার মোবাইল কোম্পানি থেকে অন্যরা আপনার নাম, ঠিকানা, নাম্বার নিয়ে আপনাকে অনবরত কল দিতেই থাকে। এসব প্রতিহত করার জন্য আপনি এখানে গিয়ে আপনার ফোন নাম্বার রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। এখানে রেজিস্ট্রেশন করার পরে টেলিমার্কেটাররা আর আপনাকে আইনানুযায়ী কোন কল দিতে পারবেনা। যদি দেয়, আপনি এদের বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারবেন একি সাইটে।

৩। https://www.optoutprescreen.com/ – আরেকটি মাধ্যমে মার্কেটিং কোম্পানীরা আপনার তথ্য নিয়ে থাকে যেটা হলো আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যুরো থেকে। কয়েকটি ক্রেডিট ব্যুরো রয়েছে যেগুলো আপনার ক্রেডিট সম্পর্কিত তথ্য অন্যন্যদের কাছে বিক্রি করে। আপনার তথ্য নিরাপদ রাখতে এখানে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।

মোবাইলে অফলাইন ন্যভিগেশন

Published by:

গুগল ম্যপ যারা নিয়মিত ড্রাইভিং করে থাকেন, তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি সার্ভিস/এপ। কিন্তু গুগল ম্যপের একটি সমস্যা হচ্ছে এটি সম্পুর্ণ ইন্টারনেট নির্ভর। এর সুবিধা/অসুবিধা দুটোই রয়েছে। মূল অসুবিধেটা হলো যখন আপনার সেলফোনে সার্ভিস থাকবেনা, বা ইন্টারনেট স্লো থাকবে, তখন কিভাবে চলবে এটি? এসব কারনে ন্যভিগেশনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন “অফলাইন” ন্যভিগেশন এপ। এগুলোতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট দেশের পুরো ম্যপটাই ডাউনলোড করে নিতে পারেন। তাহলে পরে রাস্তায় আর কখনো ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়বেনা। এন্ড্রয়েড এবং আইওএস এ পাবেন হরেক রকম অফলাইন জিপিএস ন্যভিগেশন এপ। এগুলোর মধ্যে বেশ ভালো এবং জনপ্রিয় কয়েকটি হচ্ছে – নোকিয়া হিয়ার ম্যাপস, সিজিক ম্যপস, টমটম ম্যপস, ইত্যাদি। এগুলোর অনেকগুলো আগে বেশ কিছু টাকা দিয়ে কেনা লাগতো। কিন্তু তারা এখন বিজনেস মডেল পরিবর্তন করায় এখন এপস এবং ম্যপগুলো মোটামুটি ফ্রীতেই পাবেন সব। তবে টার্ন বাই টার্ন ন্যভিগেশন করতে গেলে কয়েকটি এপস এ পে করা লাগাবে। এর মধ্যে একমাত্র নোকিয়া সম্পুর্ণ ফ্রীতে এই সুবিধা দিচ্ছে। টমটমে এ ৫০ মেইল পর্যন্ত টার্ন বাই টার্ন ন্যভিগেশন পাওয়া যাবে।

মোবাইল – কি কিনবো? কি কেনা উচিত? শপিং গাইড

Published by:

বেশিরভাগ ব্যক্তিগত মোবাইল আজকাল একটি স্ট্যাটাস সিম্বল। কেউ কেউ আছেন স্বল্পদামী মোবাইল ব্যবহার করেন, কেউ নামি-দামী মোবাইল সেট পছন্দ করেন, কেউ বাহ্যিক আকারের কারনে ব্যবহার করেন, কেউ কেউ ফাংশানের জন্য ব্যবহার করে থাকেন। যার যা পছন্দ এবং প্রয়োজন সেভাবে তার মোবাইল সেট সিলেক্ট করে থাকেন। এখানে রাইট বা রং এর কিছুই নেই। সবকিছুর মূলে অবশ্য বাজেট। আমি দশ হাজার টাকার মোবাইল কিনবো নাকি ষাট হাজার টাকার মোবাইল কিনবো সেটা আমার উপরেই। বাজেট ঠিক হবার পরে কি কি ফিচার দেখা উচিত তা নিয়ে লিখছিঃ

ক্যমেরা – ছবি তোলা কে না পছন্দ করেন। ছবি অমূল্য। আপনার ফোন পাল্টাতে পারবেন এক নিমিষেই কিন্তু হারিয়ে যাওয়া ছবি আর পাবেন না। জীবনের সুন্দর মূহুর্তগুলো ক্যমেরাবন্দী করার জন্য ভালো ক্যমেরা চাই। মেগাপিক্সেলের পাশাপাশি লেন্স কোয়ালিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে খুব কম স্মার্টফোনেই অপটিকাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) রয়েছে। নোকিয়া/মাইক্রোসফটের আগামী কিছু ফোনে এ ফিচার থাকার কথা রয়েছে। তাই পছন্দের মোবাইলে জেনে নিন ক্যমেরা কার তৈরি, রিভিউ কেমন, কোয়ালিটি কেমন। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের দ্বারা লেখা ফোন ক্যমেরা রিভিউ দেখুন ডিপিরিভিউ (DP Review) এবং সেরা ক্যমেরা তালিকা দেখুন ডিএক্সও মার্ক (DxO Mark) এ। বর্তমানে সেরা দশ ক্যমেরা ফোন হলো (এক থেকে দশ) –

সনি এক্সপেরিয়া জি৫ > স্যমসাং এস৬ এজ > গুগল নেক্সাস ৬পি > এলজি জি৪ > স্যমসাং নোট ৪ > মোটোরলা এক্স স্টাইল > সনি এক্সপেরিয়া জি৩+ > এপল আইফোন ৬+ > এপল আইফোন ৬ > স্যমসাং এস৫

স্টোরেজ – আইফোনে এ স্টোরেজ ফিক্সড। কাজেই আইফোন কেনার আগে এ স্টোরেজ নিয়ে একটু ভেবে দেখবেন। এন্ড্রয়েড এবং উইন্ডোজ ফোনের স্টোরেজ ক্যপাসিটি মেমরি কার্ড দিয়ে খুব সহজেই এবং সস্তায় বাড়ানো যায় যেটা আইফোনে সম্ভব নয়। আপনি ফোন এ কি কি রাখতে চান? এক গাদা ফাইল? পোর্টেবল পেন ড্রাইভ বা হার্ড ড্রাইভ হিসেবে ব্যবহার করতে চান? ছবি? গান? ভিডিও? প্রশ্ন করুন নিজেকে। এন্ড্রয়েড স্টোরেজ এবং আইওএস স্টোরেজ নিয়ে বিস্তারিত জানতে এগুলো পড়ে নিন।

নেটওয়ার্ক – আপনি আপনার ডিভাইসটি কোথায় ব্যবহার করবেন? বাংলাদেশ? আমেরিকা? সেখানে ৩জি বা ৪জি নেটওয়ার্কের কোন কোন ফ্রিকোয়েন্সীতে চলে? আপনার সার্ভিস কোন ব্যন্ড এ চলে? আপনার সম্ভাব্য ফোনে সেই ব্যন্ডগুলো আছে তো? এসব তথ্য পাবেন ফোনের টেকনিকাল স্পেসিফিকেশন পেজ এ। ফোন ডাটাবেজ পিডিএডিবি (PDAdb) থেকেও পেতে পারেন এসব তথ্য। এছাড়াও ফোন এরেনা (PhoneArena) তে পাবেন আরো অনেক তথ্য এবং রিভিউ।

ব্যটারি লাইফ – আজকাল স্মার্টফোনে কেবল শুধু কথাই নয়, ছবি তোলা থেকে শুরু করে চ্যাটিং, ব্যঙ্কিং, শপিং সবকিছু হয়ে থাকে। আর এসবের জন্য চাই ভালো, দীর্ঘমেয়দী ব্যটারি লাইফ। বর্তমানে ফোনগুলো গড়ে একদিন চলে নরমাল্ ব্যবহারে। এখন আপনি যদি খুব হেভি ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার এটা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। সব সময় আপনি চার্জারের আশেপাশে থাকবেন? আলাদা ব্যটারী বা চার্জার সঙ্গে নিয়ে ঘুরবেন? আজকাল অবশ্য কিছু পোর্টেবল ব্যটারী “জুস প্যক” পাওয়া যায়। এগুলো দেখতে অনেকটা মোবাইল সেটের মতই, যেগুলো থেকে ইউএসবি তার দিয়ে আপনার মোবাইল রিচার্জ করা সম্ভব। হেভি ইউজারদের জন্য এটি আরেকটি বিকল্প।

সর্বশেষে একটা কথা বলতে চাই। সেটা হলো যারা পাওয়ার ইউজার আছেন, তাদের কাছে এন্ড্রয়েড প্লাটফর্ম পছন্দ হবে। এতে প্রচুর অপশন/ফিচার রয়েছে যেগুলো আইওএস এ কল্পনাতীত। আইওএস পাওয়ার ইউজারদের জন্য ভীষণভাবে লিমিটেড। মনে রাখবেন, “এন্ড্রয়েড” কোন ফোন নয়, এটা একটা প্লাটফর্ম। এন্ড্রয়েডে পাঁচ হাজার টাকার ফোন আছে আবার পঞ্চাশ হাজার টাকার ফোন ও আছে। এখন কেউ যদি স্বল্পদামী এন্ড্রয়েড ব্যবহার করে বলে থাকে যে এন্ড্রুয়েড ফালতু, স্লো, এটা কেবল তাদের অজ্ঞতারই প্রকাশ। এন্ড্রয়েড ব্যবহার খুবি সহজ। আপনি যেভাবে মন চায় সেভাবে পার্সোনালাইজড এবং কন্ট্রোল করতে পারবেন। এন্ড্রয়েড ভালো না লাগলে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ফোন অথবা এপল আইফোন নিতে পারেন। এগুলোর ব্যবহার ও সহজ। তবে উইন্ডোজে এ এপ্লিকেশন সংখ্যা একটু কম। যদিও উইন্ডোজ ১০ রিলিজের পর এটি অনেক বেড়ে যাবে। উইন্ডোজ বা আইওএস এগুলো কোনটাই এন্ড্রয়েডের মত ফিচার রিচ বা ফ্লেক্সিবল নয়। আপনি যদি শুধু গুটিকয়েক কাজের জন্য স্মার্টফোন নিয়ে থাকেন তাহলে আপনি এন্ড্রয়েড, আইওএস বা উউন্ডোজেই যান না কেন, সেটা খুব একটা প্রভাব ফেলবেনা। যখনি আপনি আপনার মত ইচ্ছেমত কিছু করতে যাবেন, তখনি আপনি এন্ড্রয়েডের ফ্লেক্সিবিলিটি আর আইওএস এর লিমিটেশন বুঝতে পারবেন।